Main Menu

সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গায় চলছে ধর্ষণের হলিখেলা, ধ্বংস হচ্ছে মা জাতি

সারা দেশের ন্যায় চুয়াডাঙ্গাতেও ধর্ষণের হলিখেলা শুরু হয়েছে। প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও শিশু, কিশোরীসহ বিধবা বউয়ের ইজ্জতহানির খবর পত্রিকায় দেখা যাই।

দীর্ঘদিন চলতে চলতে এক ভয়াবহ মহামারী রুপধারণ করেছে ধর্ষণ রোগে। এ মহামারীর নিষ্পত্তি হবে আইনের কঠিন শাস্তি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। যদি আইন সঠিক এবং শাস্তির বিধান অতঙ্কিত হয় তাহলে এই মহামারীর মত ধর্ষণ রোগ নিমিশেয় বন্ধ হবে এবং সেই শাস্তি এমন হবে যা দেখে কোনো দুসকৃতিকারী ধর্ষণ করতে সাহস পাবে না। তা নাহলে ধর্ষণের মহাৎসব চলতেই থাকবে। সেইসাথে ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধ বাড়তেই থাকবে। যদি তাৎক্ষণিকভাবে আইনের কঠোর শাস্তির প্রয়োগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা না হয় তাহলে আস্তে আস্তে ধর্ষণকারীর সংখ্যা বেড়ে যাবে, সমাজে বাড়বে ধর্ষিতার সংখ্যা। সেসময় পরিণত হবে ধর্ষিত সমাজে। আর তখনই আইনের প্রতি আস্থা চিরতরে হারিয়ে ফেলবে সমাজের মানুষ যা রাষ্ট্রের জন্য দু:খজনক ব্যাপার।

এই সমাজকূল এমন আকৃতিতে ধারণ করেছে যা ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধ করছে শিক্ষিত-অশিক্ষিত নামের এই সমাজের কিছু অসাধু মানুষ। একেরপর এক ধর্ষণ হওয়া স্বত্ত্বেও শাস্তির বিধানও কঠিন হতে দেখা যাচ্ছে তবুও ভয় পাচ্ছে না ধর্ষণকারীরা। আজ তাদের কারণেই সমাজে কলঙ্কিত হচ্ছে শিশু, ছাত্রী, কিশোরীসহ নানা বয়সের মা জাতি। এ জন্য ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধের জন্য ওইসব ধর্ষণকারীদের এমন শাস্তি দেয়া উচিৎ যাতে করে আর কেউ ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধ করতে না পারে।
এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে এক সচেতন ব্যক্তি বলেন, সকালে পত্রিকার পাতা খুললেই দেখা যায় চাচা কর্তৃক ভাতিজা ধর্ষিত, বাবা কর্তৃক মেয়ে ধর্ষিত, শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষিত, ডাক্তার কর্তৃক রোগী ধর্ষিত, ডাক্তারী চেকআপ ইসিজি করতে গেলেও সেখানেও ইসিজি কর্মচারী দ্বারা হতে হয় যৌন নিপীড়ন বা ধর্ষণ। মাদ্রাসা শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষিত বা বলাৎকারের সংবাদও বাদ যায় না। যা এই শিক্ষিত সমাজের জন্য একেবারেই বেমানান এবং লজ্জাজনক। এছাড়াও বর্তমানে শুরু হয়েছে গণপরিবহণে ধর্ষণ। এভাবে যদি গণপরিবহণে ধর্ষিত হয় ছাত্রী, গৃহবধূ ও কর্মজীবীনারীরা তাহলে নারী জাতির নিরাপত্তা কোথায়? অথচ নারীদের অধিকার দিন দিন বাড়তেই আছে।
অপরদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এক অভিভাবক বলেন, ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধের সংবাদ দেখতে দেখতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি আমরা। আমাদের মেয়েরাও স্কুল কলেজে পড়ালেখা করে। যেহারে উত্যক্তকারী ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধ দিন দিন বাড়ছে মেয়েদের নিয়ে টেনশনে থাকি সবসময়। কিন্তু সমাজে আইনের শাসন না থাকায় এই ঘৃণিত অপরাধ দিন দিন বাড়তেই আছে। ফলে সমাজ থেকে নিশ্বেষ হয়ে যাচ্ছে শিশু নারী ছাত্রীসহ কলঙ্কিত হচ্ছে মা জাতি। যা এই মুসলিম রাষ্ট্রের জন্য অপমানজনক।
অপরদিকে, তদন্তপূর্বক দেখাগেছে, বখাটেরদের উৎপাত চুয়াডাঙ্গা সদরসহ ৪ উপজেলায় ধর্ষণ ও উত্যক্তকারী বিদ্যমান রয়েছে। সমাজে আইন থাকলেও কিছু অসাধু পুলিশের কারণে আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকায় বখাটেদের উৎপাত দিন দিন বাড়তেই আছে।
ভুক্তভোগী স্কুল ও কলেজের কিছু ছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলে, বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার মধ্যে বখাটেদের উৎপাত আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। শহর বা মহল্লার মোড়ে মোড়ে দোকানে দোকানে বখাটেদের আতঙ্কে আমাদের মত স্কুল কলেজগামী ছাত্রীরা নিরাপত্তার সাথে পাঠ্য কার্যক্রম করতে প্রাইভেট, স্কুল বা কলেজে যেতেও আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় সবসময়।
ছাত্রীরা আরও বলে, সমাজে আইন আছে কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাও ঠিকই আছে কিন্তু কিছু অসাধু পুলিশের কারণে সমাজে বখাটেদের সংখ্যা দিন দিন বাড়তেই আছে। যদি প্রতিনিয়ত বখাটেদের উপর অভিযান চালানো যেত তাহলে বখাটেদের সাহস বন্ধ হয়ে যেত। আর এসব ধরণের বখাটেদের জন্যই সমাজে বেশির ভাগ ছাত্রী, নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে।
এখন ডিজিটাল যুগ গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন পত্রিকা বা টিভিতে দেখি কোথাও না কোথাও বখাটেদের প্রেমের প্রস্তাব বা কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ছাত্রী বা কিশোরীকে এসিড নিক্ষেপসহ হতে হয় ধর্ষণের শিকার। এই ঘৃণিত অপরাধের কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে অনেকেই বেছে নিচ্ছে আত্মহত্যার পথ। যা খুনির সামিল অপরাধ বখাটের। যার ফলে কোথাও কোথাও শিশু, কিশোরী বিধবা নারীসহ অন্যের ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে শত শত মা জাতি। যা এই শিক্ষিত সমাজের জন্য আইন প্রশাসন থাকলেও বখাটেদের এসিড নিক্ষেপসহ ধর্ষণের মত ঘৃণিত অপরাধ ঘটেই যাচ্ছে। সারা দেশসহ চুয়াডাঙ্গা জেলায়ও চলছে ধর্ষণের হলিখেলার মহাৎসব। আর সেই হলিখেলায় মেতে উঠেছে এই সমাজেরই কিছু শিক্ষিত অশিক্ষিত নিকৃষ্ট মানুষ।
তদন্তে জানাগেছে, বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মধ্যে বখাটে ও আলমডাঙ্গা দামুড়হুদা এবং জীবননগর উপজেলাতে বখাটেদের নারী উত্যক্তকারীর পাশাপাশি ধর্ষণের সংখ্যা বেশি শোনা গেছে।
ধর্ষণ এমন এক মহাসারীতে পরিণত হয়েছে যা পবিত্র শবে বরাতের দিনও জীবননগর ও মহেশপুরে দুই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে। ধর্ষণকারী হলেও তারা ছিল মুসলমান, তাহলে কত বড় নিকৃষ্ট না হলে পবিত্র শবে বরাতের দিনও ধর্ষণ করতে পারে। সোনার বাংলা গড়তে এদের জন্য সরাসরি কোনো আপস ছাড়াই মৃত্যুদণ্ডের আইন জারি করা ফরয হয়ে গেছে বলে জানান, সচেতন কিছু অভিভাবক মহল।
এছাড়াও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতমণ্ডলীর সদস্য শেখ সেলিমও ধর্ষকদের ওপর ফায়ার স্কোয়াডে বিচার চেয়েছেন। যদি প্রতিটা সমাজে এহেন বিচার প্রতিষ্ঠা করা না যায় তাহলে সোনার বাংলা গড়া প্রধানমন্ত্রীর জন্য সম্ভবপর হবে না বলেও মনে করেন চুয়াডাঙ্গার সচেতন মহল।
ধর্ষণ নামের এই ঘৃণিত অপরাধ মহামারীতে পরিণত হওয়ায় গত ৬ মাসে শিশু, নারীসহ ছাত্রী ধর্ষিত হয়ে প্রায় ৬শ’র বেশি। যা সুরাষ্ট্রের জন্য কখনও আশা করা যায় না। তাই এই সংবাদের ভিত্তিতে সরকার ধর্ষক ও বখাটেদের উপর যদি যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড দেয়ার আইন পাস করবেন এনটাই দাবী সচেতন মানুষসহ ভুক্তভোগী অভিভাবকের।






News Room - Click for call