Main Menu

সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করলো গোপালগঞ্জের আরজু মনি

গত শনিবার (২০ এপ্রিল) গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর শরীফপাড়ার সৌদি প্রবাসী নিজাম উদ্দিন শরীফের মেয়ে ও গোপীনাথপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী আরজু মনি আত্মহত্যা করে। নিজ একাকার বখাটে রাহাত শরীফ ও তার সহযোগীদের উত্ত্যক্তের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় আরজু মনি।

শোয়ার ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে।
আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোট লিখে যায় আরজু মনি।

পাঁচ পৃষ্ঠার সুইসাইড নোটে স্কুলছাত্রী আরজু মনি লিখেছে, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। ও মা, তুমি আমাকে মাফ করে দিও। আমি চাই না আমার মা-বাবার মান সম্মান নষ্ট হোক। আমি আগেই এখানে (বাড়িতে) না থাকার জন্য তোমাদের বলেছিলাম। কিন্তু তোমরা গেলে না। আমি মৃত্যুর পর তোমরা আর এখানে থেকো না। কারণ এখানে থাকলে কেউ আর লেখাপড়া শিখতে পারবে না। তাই তোমাদের কষ্ট হলেও অন্য কোথাও চলে যেও।

সুইসাইড নোটে আরজু মনি আরও লিখেছে, সত্যি, মা রাহাতের সঙ্গে আমার কোনো খারাপ সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু রাহাত বা অন্য কেউ আমার নামে যে মিথ্যা কথা বলেছে তার বিচার আল্লাহ করবে। আল্লার কাছে বিচার দিলাম। আমাকে ক্ষমা করে দিও তোমরা।

আরজু মনির মা লতিফা বেগম বলেন, গোপীনাথপুর শরীফপাড়ার রেজাউল হক শরীফের ছেলে বখাটে রাহাত শরীফ ও তার বন্ধুরা বেশ কিছুদিন ধরে আমার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিল স্কুলে যাতায়াতের সময় এবং পথরোধ করেও মনিকে আজেবাজে কথা বলতো। আমাদের বাড়ির সামনে এসে রাহাত ও তার বন্ধুরা প্রতিদিন আড্ডা দিতো। আমার মেয়ে ঘর থেকে বের হতে পারতো না। তাকে কটূক্তি ও আজেবাজে ইঙ্গিত করতো রাহাত ও তার বন্ধুরা।

মাতা লতিফা বেগম বলেন, মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয়দের জানানো হয়। পরে গ্রাম্য সালিশে বখাটে রাহাতকে তিরস্কার করা হয়। এরপর থেকে লোকলজ্জা ও ভয়ে আমার মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এরপরও রাহাত এসব থেকে বিরত হয়নি। সে তার বন্ধুদের নিয়ে আমাদের বাড়িতে এসে মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো। প্রতিবাদ করলে আমাদেরকে বাড়ি থেকে উৎখাতের হুমকি দিতো রাহাত। বখাটে রাহাত শরীফের কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় আমার মেয়ে। এখন আমাকে মুখ না খুলতে হুমকি দিচ্ছে সে। আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

গোপীনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আওয়াল হোসেন রানা বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে স্কুলছাত্রী আরজু মনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে তার মরদেহ গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। তবে তার আত্মহত্যার বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ কিংবা মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।






News Room - Click for call