Main Menu

খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে গোপালগঞ্জের কৃষকরা হতাশ

আকতার মোল্ল্যা (৬৫) একজন কৃষক। গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার সাতবাড়ী গ্রামে তার বাড়ী। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি গোপালগঞ্জ শহরের পাচুড়িয়ায় খাদ্য গুদামে কৃষি কার্ড নিয়ে এসেছেন তার জমির ধান বিক্রি করার জন্য। দুপুর একটা পর্যন্ত তিনি কৃষি কার্ড জমা দিতে পারেন নাই। আকতার মোল্ল্যা জানিয়েছেন নিজড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান সরদার তাকে বলেছেন কৃষি কার্ড নিয়ে আসতে। তার মতো কৃষি কার্ড নিয়ে নিজড়া থেকে এসেছেন মোশাররফ সিকদার,নান্নু শেখ,বিল্লাল খাঁনসহ কমপক্ষে পচিশ জন। কিন্তু কেউ কৃষি কার্ড জমা দিতে পারেন নাই।
পার্শ্ববর্তী উলপুর ইউনিয়নের মাহাবুব শেখ (৪৮) নামে একজন কৃষক কৃষি কার্ড নিয়ে এসেছেন ধান বিক্রি করতে । কিন্তু তিনিও ব্যার্থ হয়েছেন। কৃষি কার্ড জমা না দিতে পেরে তিনি হতাশ। অন্যান্য ইউনিয়ন থেকে আরও কমপক্ষে ৫০ জনকে দেখা গেছে কৃষি কার্ড নিয়ে ঘোরাঘুরি করতে। কিন্তু কোন লাভ হয় নাই। গোপালগঞ্জ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিস্থিতি বেগতিক দেখে খাদ্যগুদাম থেকে সরে পড়েছেন। সহকারীদের অফিস ছেড়ে ষ্টাফ কোয়ার্টারের একটি কক্ষে কর্মকান্ড চালাতে দেখা গেছে। জিজ্ঞাসা করে জানা গেছে উপজেলায় কৃষক সংখ্যা এবং উৎপাদিত ধানের তুলনায় সরকারের নির্ধারিত পরিমান অনেক কম বিধায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা কৃষক লীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, তিনি ও তার ভাই মোট ৪ টন ধান নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। উপজেলায় প্রায় দেড় লাখ মে.টন ধান উৎপন্ন হয়েছে। পক্ষান্তরে সরকার কিনছে মাত্র ৬১৭ মে.টন ধান। কিভাবে কৃষকদের সামাল দেয়া সম্ভব বলেও তিনি প্রশ্ন রাখেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নিজড়া ইউনিয়নের একজন কৃষক বলেছেন, বুধবার সকালে চেয়ারম্যান আজিজুর রহমান নিজে এসে তার পছন্দের কৃষকদের কার্ড জমা দিয়ে গেছেন। সেকারনেই অন্য কোন কৃষকের কার্ড নেয়া হচ্ছে না। নিজড়া ইউনিয়ন থেকে সরকার মাত্র ৩৫ মে.টন ধান ক্রয় করবে। সংগত কারনে অন্য কৃষকরা হতাশ হবে এবং এটাই স্বাভাবিক।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি অফিসার মো: মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, উপজেলায় প্রায় ৪৫ হাজার কৃষিকার্ডধারী কৃষক রয়েছেন। এর বিপরীতে মাত্র ৬১৭ মে.টন ধান ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা সমীচিন হয় নাই। প্রতি কৃষকের কাছ থেকে মাত্র ২ টন ধান ক্রয় করার সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে হয়েছে। বাকী কৃষকদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে কৃষি ও খাদ্য বিভাগের উপর। ঈদ উল ফিতর অত্যাসন্ন বিধায় সবাই ধান বিক্রির জন্য উঠেপড়ে লেগেছে।

সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো: শহিদুল্লাহ বলেন, কৃষকরা বিক্রির জন্য ধান খাদ্য গুদামে এনে বিপাকে পড়লে আমাদের করার কিছুই নাই। সরকারের নির্ধারিত পরিমানের বাইরে ধান ক্রয়ের কোন সুযোগ নাই।

এদিকে খাদ্য গুদামে বিভিন্ন জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে ইউনিয়নওয়ারি ধান ক্রয়ের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান,প্রভাবশালী সরকার দলীয় নেতা,ডিলারসহ বিভিন্ন মহলের সুপারিশে সরকারের কাছে সাধারন কৃষকরা ধান বিক্রয়ের সুযোগ পাচ্ছেনা। এর সাথে রয়েছে ব্যবসায়ী,মুজদদার ও ফড়িয়াদের উৎকোচ প্রদানের মাধ্যমে ধান বিক্রয়ের চেষ্টা।
উল্লেখ্য বিভিন্ন গ্রাম থেকে কৃষকরা উৎপাদিত ধান নিয়ে গোপালগঞ্জ খাদ্য গুদামে এসে বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে। তারা না পারছে বিক্রি করতে না পারছে বাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার খরচ বহন করতে।






News Room - Click for call