Main Menu

এম. আজমানুর রহমানের “নির্ঘুম রাত”

পৃথিবী তখন মরণ ঘুমে,আমি জেগেছিলাম একাকীত্বের সাথে !!

ঘড়ির প্রতিটি কাটার সাথে আমার সঙ্গী হিসাবে জেগে ছিলো আমার স্মার্ট ফোনটি। মায়ের খাটের নতুন ওশারের বালিশটাতে শুয়েছিলাম সারারাত।

চোখের পলক পড়েনি আমার, নিষ্পলক চোখে তাকিয়ে ছিলাম আমার একাকীত্বের সঙ্গী স্মার্ট ফোনটির দিকে। যতই হয় রাত গভীর। চারদিক থমথমে নিথর, শান্ত নীড়।একাকী র্নিঘুম রাত মিটিমিটি জোনাকীর সাথে কাটাচ্ছি।
রাতদুপুরে যে যার মত সবাই নি:সঙ্গ, চাঁদ তারাদের সাথে রাতজুড়ে করছি আমি রঙ্গ। চার পাশ থেকে ভেসে আসছিলো জোনাকী পোকার ডাক।

জানালার ফাঁকা দিয়ে কুয়াসাছন্ন রাতে দেখা যাচ্ছিলো আকাশে চাঁদ মামাকে। রাতদুপুরে যে যার মত সবাই নি:সঙ্গ। চাঁদ মামার পাশ দিয়ে ঘুরছিলো তাঁরা। চাঁদ তারাদের চলে রাতজুড়ে রঙ্গ। মাঝে মাঝে নিভে যায় চাঁদের উজ্জ্বল শিখা আকাশটা ঢেকে দেয় অবাঞ্চিত কুহেলিকা ।

শরীর জুড়ে শীতের হাল্কা মৃদু ঠান্ডা।নির্ঘুম একাকীত্ব রাতের গল্পের শুরুটা এভাবেই হয়েছিল।রাত কি সত্যিই একাকীত্বের হয়?

হয়ত হয় কিংবা হয় না, একাকীত্ব রাতের গল্প শেষ হয়েও হয়না।

রাতের একাকীত্বের সাথে সম্পর্ক আমার অনেক পুরানো। ইদানিং আমার রাত শেষ হতে চায় না। এ যেন এক অন্তহীন রাত। নির্ঘুম আমি জেগে থাকি একা মৃত ঘুমের এই দুনিয়ায়।

প্রকৃতির নিয়মে যখন ভোর হয় তখনো আমাকে জড়িয়ে থাকে এই অন্তহীন রাতের নিকষ কালো আধার। যখন সবাই রাতের আধারের শেষে সূর্যের কিরণের সাথে নতুন এক আশা নিয়ে নতুন একটা দিন শুরুর উচ্ছাসে মাতোয়ারা, আমি তখনো অমাবস্যার রাতের মতো কঠিন কালো একাকীত্বের জালে আপাদ মস্তক জড়িয়ে থাকি। আমার এই একাকীত্বের রাত আর শেষ হয়েও হইবে না কোনোদিন।

বুঝতে পারবে কি আমার একাকীত্বের গভীরতা, তার তীব্রতা।তিলে তিলে নিজেকে একাকীত্বের সাথে কষ্ট দিয়ে ভোরের দিকে এগিয়ে চলি।রাত শেষে সূর্যের আলো উঠে ভোর হয়।একাকীত্ব চলে যায় রাতের শেষ প্রহরে।

আমার অবশ মনের দেয়াল জুড়ে রইলো আমার
স্মার্ট ফোনটি আর মায়ের খাটের নতুন ওশারের বালিশটি।

স্মার্টফোনটি ড্যাবড্যাব চোখে আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলছে আমি সাক্ষী হয়ে থেকে গেলাম একাকীত্বের সেই রাতের…..

লেখক: এম. আজমানুর রহমান (সাংবাদিক)






News Room - Click for call