Main Menu

খুলনা মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ সরকারি হলেও শিক্ষার্থীরা সুবিধা বঞ্চিত

খুলনা প্রতিনিধি : অনলাইনে খুলনা সরকারি মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজকে সরকারি হিসেবে দেখেই আবেদন করেছিলেন একাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীরা। তবে এখনও সরকারি কলেজের কোনো সুবিধা পাচ্ছে না শিক্ষার্থীরা। আগের নিয়মেই তাদের বেতন ও অন্যান্য ফি জমা দিতে হচ্ছে। এরই প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কলেজের সামনেই বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে মানববন্ধনে অংশ নেন তাঁরা। কলেজটি ২০১৭ সালে সরকারিকরণ হয়েছে।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে ভর্তি সংক্রান্ত বিষয়সহ সব কিছুতে ইন্টারনেটের ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু ইন্টারনেটে কলেজটিকে সরকারি মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ হিসেবেই লেখা রয়েছে। সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার স্বার্থে ভর্তি হয়েছিল শিক্ষার্থীরা। ওই কলেজের প্রায় সব শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়েছে সরকারি লেখা দেখেই। কিন্তু নামমাত্র সরকারি ওই কলেজে বেসরকারি হিসেবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বেতন। কলেজ থেকে বলা হয়েছে আগামী জুন মাসের মধ্যে ছয় মাসের বেতন পরিশোধ করতে হবে।

তাঁরা বলেন, ‘ওই বেতন আমাদের অভিভাবকদের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ আমরা সবাই দরিদ্র পরিবারের সন্তান। আমরা প্রত্যেকে মেধা দিয়ে ওই কলেজে পড়ার সুযোগ করে নিয়েছি। আমরা এই কলেজেই পড়তে চাই এবং তা সরকারি সুযোগ সুবিধা নিয়েই।’

শিক্ষকরা এর আগে প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন যে বেসরকারি কলেজের বেতন দিতে হবে না। কিন্তু তাঁদের ওই প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। ওই অযৌক্তি বেতন বন্ধ ও সরকারি সুযোগ সুবিধা পাওয়ার দাবি করনে শিক্ষার্থীরা। আর এজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তারা। অবিলম্বে তাঁদের ওই দাবি মেনে না নেওয়া হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধন চলাকালে অভিভাবকরা বলেন, কলেজটি ২০১৭ সাল থেকে সরকারি মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ নাম লাগিয়ে রেখেছে। সেই হিসেবে ছাত্রদের কাছ থেকে বেতন ও অন্যান্য ফি নেওয়া হয় না। অভিভাবকরা তাঁদের ছেলে-মেয়েদের বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। দীর্ঘদিন ধরে ওই অযৌক্তিক বেতন ও ফি’র বিরুদ্ধে কলেজ কর্তৃপক্ষকে দাবি জানানোর পর আশ্বাস দেওয়া হয়েছে দুই এক মাসের মধ্যে সরকারি বেতন ফি নেওয়া হবে কিন্তু এখনও পর্যন্ত তেমন কোনো লক্ষ্যণ দেখচ্ছে না অভিভাবকরা। পরীক্ষার ফি, বেতন ও অন্যান্য ফি পরিশোধ করতে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা খরচ হয়, যা অভিভাবকদের জন্য খুবই কষ্ট সাধ্য। অভিভাবকরা ওই টাকা পরিশোধ করতে রাজি নন। অতিহ দ্রুত এর সমাধান দাবি করেন তাঁরা।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ শেখ মোঃ বদিউজ জামান বলেন, ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণ করা হয়েছে। তবে জনবল আত্মীকরণ করা হয়নি। মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী জনবল আত্মীকরণ না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানকে আগের নিয়মেই চলতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এমপিও ভুক্ত নয়। এ কারণে শিক্ষকসহ সব স্টার্ফদের বেতন দিতে হয় শিক্ষার্থীদের বেতন থেকে। গত ১১ মাস ধরে শিক্ষক ও স্টার্ফদের বেতন বকেয়া রয়েছে। নামে সরকারি হলেও কলেজে সরকারি করণের কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায় না। সরকারি করণের সুবিধা পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদেরও ওই সুবিধা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।






News Room - Click for call