Main Menu

ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়া ম্যাচ : কে হাসবে শেষ হাসি?

ইংল্যান্ডে মাঠে ক্রিকেট বিশ্বকাপের আসর; সেই আসরে বহুল আলোচিত ও আকর্ষিত সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) বার্মিংহামের এজবাস্টনে বাংলাদেশ সময় দুপুর সাড়ে ৩টায় শুরু হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ।

ইংলিশদের আজ অগ্নি পরীক্ষা; এ ম্যাচে দীর্ঘ চার বছরের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে স্বাগতিকদের। ২০১৫ সালের বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডে দুর্ভাগ্যজনকভাবে বিদায় নিতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে। তবে এই আসরে ফেবারিট হিসেবেই বিশ্বকাপের মিশন শুরু করেছিল স্বাগতিকরা। যদি গ্রুপ পর্বে তারা তিন ম্যাচ হেরে বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিল। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার কাছে পরাজিত হওয়ায় সমালোচনাটা আরো বেশি হয়। এরপরই ঠিক ঘুরে দাঁড়িয়ে ভারত ও নিউজিল্যান্ডকে পরপর হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমির আসন পাকা করেছে। এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য গেল বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা!

দ্বাদশ বিশ্বকাপের লিগ পর্বে অজিদের সঙ্গে দেখা হয়েছিল স্বাগতিকদের। ওই ম্যাচে অজিরা ইংল্যান্ডকে ৬৪ রানে গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। ২৫ জুন লর্ডসের সেই ম্যাচে ২৮৬ রান তাড়া করতে নেমে ২২১ রানে শেষ করে ইংল্যান্ড। ইংরেজদের হয়ে কোনো ব্যাটসম্যানই বড় স্কোর করতে পারেননি। তবে ওপেনার জেসন রয় ফিরে আসায় আবার ইংল্যান্ডের ব্যাটিং শক্তি ফিরে পায়। গ্রুপ পর্বের শেষদিকে দারুণ খেলে তারা শেষ চারে পৌঁছে যায়। লিগ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে ভারতকে হারায় ৩১ রানে আর কিউইদের হারায় ১১৯ রানের বড় ব্যবধানে।

তবে অস্ট্রেলিয়াকে হারানোর কাজটা সহজ হবে না স্বাগতিকদের। অজিরা তাদের শেষ সাতটা বিশ্বকাপ সেমিতে হারেনি। যদিও ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ সেমিতে তারা টাই করলেও শেষ পর্যন্ত রান রেটের দৌলতে ফাইনালে চলে গিয়েছিল। তাছাড়া গ্রুপ পর্বের ইনিংশদের বিপক্ষে জয়ও অজিদের আজ বাড়তি অক্সিজেন দেবে।

ইংল্যান্ডের প্রধান শক্তি দুই ওপেনার জেসন রয় ও জনি বেয়ারস্টোর ওপেনিং জুটি। শেষ দুই ম্যাচে বেয়ারস্টো দেখিয়েছেন কতটা বিধ্বংসী হতে পারেন তিনি। শেষ দুই ম্যাচে করেছেন সেঞ্চুরি। অজিদের বিপক্ষে ইংলিশদের এই জুটি বড় ব্যবধান গড়ে দিতে পারে।

তবে বিশ্বকাপে অজিদের সঙ্গে জয়ের রেকর্ড তেমন সুখকর নয় ইউইন মরগানদের। বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুদলের দেখা মোট ৮ বার; যেখানে অজিরা জিতেছে ৬ বার আর ইংলিশরা জিতেছে ২ বার। এছাড়া সব মিলিয়ে ৫০ ওভারের ম্যাচে দুদলের ১৪৮ বারের দেখায় অজিরা জিতেছে ৮২টি ম্যাচে আর ইংল্যান্ডের জয় ৬১টি ম্যাচে! আর ২টি ম্যাচ টাই ও ৩টি ম্যাচ পরিত্যক্ত হয়েছে। শুধু তাই নয়- অজিদের বিপক্ষে ১৯৯২ আসরের পর বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচে স্বাগতিকদের জয়ের রেকর্ড নেই!

 

আইসিসি ওডিআই র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ইংল্যান্ড। ২০১৫ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের সঙ্গে ১৫ রানে হেরে বিদায় নেওয়ার পর আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ স্থানটি দখল করেছে ইংল্যান্ড। এ চার বছরের মধ্যে দুইবার তারা ওয়ানডে ক্রিকেটে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছে। যার মধ্যে আছে ট্রেন্ট ব্রিজেই এক বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটে ৪৮১ রান। এটিও আজ ইংলিশদের সাহস জোগাতে সহায়তা করবে।

গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে দুঃসংবাদ এসেছে অজি শিবিরে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে হ্যামস্ট্রিং ইনজুরিতে পড়েছেন উসমান খাওয়াজা। তার পরিবর্তে পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের একাদশে ডাক পেয়েছেন পিটার হ্যান্ডসকম্ব। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে সরাসরি অভিষেক ঘটতে যাচ্ছে তার। ব্যাটিং লাইন-আপ শক্তিশালী করতেই হ্যান্ডসকম্বকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া পিঠের ইনজুরিতে ভোগা মার্কোস স্টয়নিস অস্ট্রেলিয়াকে সুখবর দিয়েছেন। নেটে তিনি নিজেকে ফিট প্রমাণ করেছেন। তাকেও দেখা যেতে পারে আজকের একাদশে।

অস্ট্রেলিয়া সম্ভাব্য একাদশ : অ্যারন ফিঞ্চ (অধিনায়ক), ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভেন স্মিথ,  পিটার হ্যান্ডসকম্ব, মার্কাস স্টয়িনিস, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, অ্যালেক্স ক্যারে (উইকেটরক্ষক), প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক,  নাথান কোল্টার নাইল ও জেসন বেহরেনডর্ফ।

ইংল্যান্ড সম্ভাব্য একাদশ : জেসন রয়, জনি বেয়ারস্টো, জো রুট,  ইউইন মরগান (অধিনায়ক),বেন স্টোকস, জস বাটলার (উইকেটরক্ষক), ক্রিস ওকস, আদিল রশিদ, জোফরা আর্চার, লিয়াম প্লাঙ্কেট ও মার্ক উড।






News Room - Click for call