Main Menu

ফরিদপুরে সংসদ সদস্য রুশেমা ইমামের দাফন সম্পন্ন

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের সদস্য ও ভাষাসৈনিক রুশেমা ইমামের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (১০ জুলাই) বাদ আসর ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স মাঠে জানাযার নামাজ শেষে শহরের কমলাপুর এলাকার ইমামবাগে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেন, ফরিদপুর পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু, ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হক, যুবলীগের কেন্দ্রীয় নেতা গোলাম ফারুক হোসেন প্রমুখ জানাযায় অংশ নেন। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবল চন্দ্র সাহা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর ডায়বেটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর। তাঁর মৃত্যুতে ফরিদপুরের রাজনৈতিক মহল ছাড়াও বিভিন্ন মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। সকাল থেকেই দলীয় নেতাকর্মী ও শুভানুধ্যায়ী ছাড়াও সাধারণ মানুষ তাঁর মৃত্যুর খবর পেয়ে শহরের ২নং হাবেলী গোপালপুরস্থ বাসভবনে ভিড় জমায়। তিনি সাবেক সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী সাবেক লীগের সভাপতি মরহুম ইমামউদ্দিন আহমেদের সহধর্মিনী ছিলেন। সাইফুল আহাদ সেলিম, আসাদুল আহাদ ও ফারজানা আহমেদ উর্মি নামে দুই পুত্র ও এক মেয়ে রেখে গেছেন রুশেমা ইমাম। চলতি সংসদে তিনি পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন।

রুশেমা ইমাম একজন আলোকিত নারী ছিলেন। ঘরমুখী নারী সমাজের মাঝে শিক্ষা বিস্তার ও আর্থসামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন রুশেমা ইমাম। ফরিদপুরের ঈশান মেমোরিয়াল ইন্সটিটিউট থেকে ১৯৫১ সালে মেট্রিকুলেশন পাশ করে তিনি রাজেন্দ্র কলেজে ভর্তি হন। ১৯৫৩ সালে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি দিয়ে ’৬৪ সালে একই কলেজ থেকে বিএ এবং ’৬৮ সালে বিএড ডিগ্রী লাভ করেন। পেশা হিসেবে শুরু থেকেই তিনি শিক্ষকতাকে বেছে নেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ফরিদপুর জুনিয়র গার্লস মাদরাসার প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন। পরে এটি হালিমা গার্লস হাই স্কুল নামকরণ করা হয়। তিনি এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মজীবন শেষ করেন। রাজনীতিতে সরাসরি যুক্ত না হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কাজে তিনি পরোক্ষভাবে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে মহান মুক্তিযুদ্ধের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি মরহুম ইমামউদ্দিন আহমেদের মাধ্যমে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ভাষা আন্দোলনেও তিনি অংশ নেন।

তাঁর মৃত্যুতে ফরিদপুর সদর আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ফরিদপুর-১ আসনের এমপি মঞ্জুরুল হক, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ, আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য বিএনপি নেতা শাহ মোঃ আবু জাফর, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধা, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মাসুদ হোসেনসহ নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।






News Room - Click for call