Main Menu

৪১ সালে উন্নত বাংলাদেশ পাবে নতুন প্রজন্ম : প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রজন্ম যেন বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে সেজন্য আগামী ৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশকে যেন আগামীতে কেউ ঘৃণার চোখে না দেখে সে লক্ষ্যে নতুন প্রজন্মের জন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দারিদ্রের হার কমিয়ে মাথাপিছু আয় বাড়ানোর লক্ষ্যেও সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে কোনো দরিদ্র মানুষ থাকবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশের বিনিয়োগকারীদের লোভে পড়ে উপার্জিত সব অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ না করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (৮ জুলাই) সকাল ১০টায় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে এশিয়া প্যাসিফিক ইকোনোমিক কো-অপারেশন ফিন্যান্সিয়াল রেগুলেটর ট্রেনিং ইনিসিয়েটিভ শীর্ষক সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

দারিদ্র্য বিমোচন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দারিদ্র্যের হার কমিয়ে মাথাপিছু আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার। ২০২৩-২৪ সালে জিডিপি দুই অঙ্কে পৌঁছাবে। অল্পদিনের মধ্যে মাথাপিছু আয় ২০০০ ডলার ছাড়িয়ে যাবে। এ দেশে কোনো দরিদ্র মানুষ থাকবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হতে বাংলাদেশ সব শর্ত পূরণ করেছে। দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে।

তিনি বলেন, দেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপ নিয়েছে। গ্রামের মানুষ পর্যন্ত আজ অনলাইনে কেনাকাটা করছে। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি পেয়েছে। অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমে আসছে।

আগামী ৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে এশিয়ার বৃহত্তম অর্থনৈতিক দেশ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল করছি। এ ১০০টি শিল্পাঞ্চলে বিদেশিদের বিনিয়োগ করার সুযোগ আছে। ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল হলে এক কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। তখন পণ্যের রফতানিও বাড়বে।

তিনি বলেন, দেশে একটি শক্তিশালী পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে আপ্রাণ চেষ্টা করছি। যার মাধ্যমে বিনিয়োগ করে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।

তবে সব টাকা বিনিয়োগ না করে কিছু টাকা হাতে রেখে বিনিয়োগের জন্য ব্যবসায়ীদের পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘আপনারা যখন বিনিয়োগ করতে যান বা খরচ করতে যান, যে টাকা উপার্জন করেন তার সবটুকু খরচ করে ফেলবেন না। জেনে বুঝে বিনিয়োগ করবেন। কিছু টাকা জমা রেখে তারপর বিনিয়োগ করবেন।’

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, যতটুকু লাভ আসে তার চেয়ে আরও বেশি পাওয়ার আশায় সবটুকু খরচ করে ফেলেন। এতে করে শেষে শূন্য হয়ে যেতে হয়। সেটা যেন না হয়। এজন্য যাই উপার্জন করুন, কিছু হাতে জমা রাখবেন আর কিছু খরচ করবেন। তাহলে আমার মনে হয় আপনাদের আয় স্থিতিশীল থাকবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বিভিন্ন সংস্কার করে পুঁজিবাজারে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে। যতবেশি মানুষ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করবে ততবেশি শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিনি বলেন, আগামী ২০ ও ২১ সাল মুজিব বর্ষ ঘোষণা করেছি। এর মাধ্যমে আমরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করবো।

৪১ সালে বাংলাদেশ হবে উন্নত বাংলাদেশ বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আগামী প্রজন্মের জন্য ডেল্টা প্ল্যান ২১০০ গ্রহণ করেছি। তখন আমরা থাকবো না। তবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যেন সমৃদ্ধ বাংলাদেশ পায়। বিশ্বের বুকে তারা যেন মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। দেশকে আর যেন কেউ ঘৃণার চোখে দেখতে না পারে। সেই পরিকল্পনায় কাজ করে যাচ্ছি।

পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) যৌথভাবে এই আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করেছে। ৮-১১ জুলাই চার দিনব্যাপী এ কনফারেন্সে জাপান, নেপাল, ভারত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইনসহ ৯টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।






News Room - Click for call