Main Menu

দুর্নীতির আখড়া রাজৈর সাব রেজিষ্ট্রার অফিস, যৌথ সিন্ডিকেটে জিম্মি সেবা গ্রহিতারা

মাদারীপুরের রাজৈর সাব রেজিষ্ট্রার অফিস অনিয়ম আর দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে। এই অফিসের কয়েক দালাল ও সাব রেজিষ্ট্রারের যৌথ সিন্ডিকেটে জিম্মি হয়ে পড়েছে সেবা গ্রহিতারা। দলিল রেজিষ্ট্রি করতে সেবা গ্রহিতাদের বিপুল পরিমান টাকা খরচ হয়।

এসব অনিয়ম ও দূর্নীতির হোতা রাজৈরের সাব রেজিষ্ট্রার তনু রায় এমনই অভিযোগ সেবা গ্রহিতাদের। দীর্ঘ অনুসন্ধানে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে আরো চাঞ্চল্যকর তথ্য।

ভূক্তভোগীরা জানান, কয়েকমাস আগে সদর সাব রেজিষ্ট্রার হিসাবে তনু রায় যোগ দেয়ার পর থেকেই অনিয়ম-দূর্নীতির আখড়ায় পরিনত করেছেন অফিসকে। তিনি এই অফিসে যোগ দেয়ার পর কিছু দিন তার অনিয়মের প্রতিবাদে আন্দোলনও করেছিল স্থানীয় দলিল লেখক সমিতির নেতারা।

এরপর তিনি দলিল লেখকদের নিয়ে তৈরী করেছে অনিয়মের বিশাল এক সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের চাহিদা পুরন না হলে কোন ধরনের সেবা পাওয়া যায় না।

এই অফিসে প্রতিদিন অনেক দলিল রেজিষ্ট্রি সম্পাদন হয়। এ ক্ষেত্রে অফিসের সংশ্লিষ্ঠরা ৫% ঘুষ, ডিআরও’র চাঁদা, দাখিলা-খতিয়ান অনয়ন ফিসহ প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকার দূর্নীতি হচ্ছে।

দলিল প্রতি সর্বনিন্ম ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৫০হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ আদায় করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়াও প্রতি দলিলে টিপসহি নিতেও টাকা আদায় করে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার ঢালী, যুগ্ম সম্পাদক আবুল বাসার, সদস্য আনোয়ার হোসেনের সাথে সাব রেজিষ্ট্রার তনু রায়ের রয়েছে অলিখিত সিন্ডিকেট। আনোয়ার, আবুল বাসার সিন্ডিকেটদের মাস্তান হিসেবে ব্যবহার করে সাব রেজিষ্ট্রার ও অপরাপর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এদের দাবীকৃত টাকা না দিলে আবুল বাসার ও আনোয়ারের নেতৃত্বে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করে গ্রাহকদের। আনোয়ার উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক হওয়ায় কেউ মুখ খোলারও সাহস পায় না। এছাড়াও আবুল বাসার সাবেক এক মন্ত্রী নাম ভাঙ্গিয়ে চলেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজৈর উপজেলা সাব রেজিষ্ট্রার ও তার অফিসের কর্মচারীরা জমি রেজিষ্ট্রি করার ক্ষেত্রে জমি ক্রেতা-বিক্রেতার সাথে যোগসাজসে প্রকৃত মুল্য থেকে কম মূল্য দেখিয়ে অবৈধভাবে উৎকোচ গ্রহনের মাধ্যমে দলিল রেজিষ্ট্রি সম্পাদন করেন। এক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয় সরকার।

একই সাথে অফিসের সংশ্লিষ্ঠরা সরকারী নিয়মে ৭ দিনের মধ্যে নকল দেয়ার ক্ষেত্রে ২৫২টাকা সরকারী ফি: পরিবর্তে জমি ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করছে প্রকার ভেদে ১১শত থেকে ২হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এরজন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় সংশ্লিষ্ঠ জমি ক্রেতাকে।

সূত্র জানায়, জমি রেজিষ্ট্রি করার সময় অফিসের সংশ্লিষ্ঠ ডি.আর ফান্ড (জেলা রেজিষ্ট্রারের নামে চাঁদা) বাবৎ দলিল প্রতি নির্ধারিত টাকা ও আইজিআর নিবন্ধন খাতে আরো ১শত টাকা করে জমি ক্রেতার কাছ থেকে আদায় করে থাকেন। পে-অর্ডার (ব্যাংক ড্রাফট) ভাঙ্গতে নেন দলিল প্রতি ১০০০ টাকা করে। যদিও ওই টাকা নেয়ার সরকারী কোন নির্দেশনা নেই এ অফিসে। তবে চালু রয়েছে, এ অফিসে খতিয়ানের সইমুহুরী দেখাতে ৫শত টাকা, খাজনা দাখিলা নিতে দিতে হয় সংশ্লিষ্ঠ ভূক্তভোগীকে ৫ শত থেকে ১হাজার টাকা করে।

গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, জমি রেজিষ্ট্রি করার ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতার ছবি, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার আইডি না থাকলেও মুহুর্তেই এসব করে দেন দলিল লেখক সিন্ডিকেট।

এ অনিয়মের জন্য সাব রেজিষ্ট্রারকে দিতে হয় ৫ হাজার টাকা করে। আর অলিখিত এই জালিয়াতির সুযোগ দিয়ে অফিসের সংশ্লিষ্ঠা হাতিয়ে নেন একটি নির্ধারিত অংকের উৎকোচ।

এছাড়াও প্রবাসী ক্রেতার নামে জমি রেজিষ্ট্রারী করার সুযোগ দিয়ে আদায় করেন মোটা অঙ্কের উৎকোচ। এভাবে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিমাসে জমি রেজিষ্ট্রি দলিল সম্পাদনসহ নানা খাতে প্রায় লাখ লাখ টাকা উৎকোচ হাতিয়ে নিচ্ছে।

সংশ্লিষ্ঠ সূত্র দাবী করেছে, প্রতিমাসে জমি রেজিষ্ট্রিসহ নানাখাত থেকে আদায় করা উৎকোচের অর্ধেক নেন সাব রেজিষ্ট্রার। অবশিষ্ট টাকা ভাগ ভাটোয়ারা করেন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কথিত সাংবাদিকরা। স্থানীয় বেশ ক’জন দলিল লেখককে মাস্তান হিসেবে ব্যবহার করে সাব রেজিষ্ট্রার।

এসব অনিয়মের মূল হোতা সাব রেজিষ্ট্রার তনু রায়ের সব দূর্নীতির ব্যাপারে বিভাগীয়ভাবে তদন্তের দাবী করছেন ভূক্তভূগীরা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাজৈর সাব রেজিষ্ট্রার তনু রায় অনিয়ম ও দূর্নীতি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজ করলে কিছু ভুল ত্রুটি হতেই পারে।

দলিল লেখক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল বাসার বলেন, আমরা রাজনীতি করি। কিছু সুবিধা তো নিবই। যেহেতু সাব রেজিষ্ট্রার এখানে চাকুরী করে তাই তার ভালো মন্দ দেখতে হয়।

মাদারীপুর জেলা প্রশাসক মো. ওহিদুল ইসলাম বলেন, এব্যপারে আমার কাছে আগেও অভিযোগ এসেছে। আমি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যাবস্থা নিব। শিঘ্রই এডিসি রেভিনিউকে তদন্তের জন্য পাঠানো হবে।






News Room - Click for call