Main Menu

শেখ হাসিনার ট্রেন বহরে হামলায় ৯ জনের ফাঁসি

পাবনার ঈশ্বরদীতে প্রায় ২৫ বছর আগে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ ও  ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় নয় জনের ফাঁসি ও ২৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (৩ জুলাই) পাবনার স্পেশাল ট্রাইবুনাল-৩ এর আদালতে বিচারক রুস্তম আলী যুক্তি-তর্ক শেষে এ আদেশ দেন।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী গোলাম হাসনায়েন, অ্যাডভোকেট আখতারুজ্জামান মুক্তা, ওবায়দুল হক প্রমুখ।

আর অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম গ্যাদা, অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার ও অ্যাডভোকেট সনৎ কুমার আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে মামলা পরিচালনা করেন।

আসামিরা সবাই ঈশ্বরদী উপজেলা, পৌর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এই মামলার প্রধান আসামি ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু ও অন্যতম আসামি পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র মকলেছুর রহমান বাবলু এবং বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবীর দুলাল আদালতে হাজির ছিলেন না। তাদের বিরদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এই মামলার ৫ আসামি বিভিন্ন সময় মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন- ওসিয়া, আলী আজগর, খোকন, তুহিন ও আলমগীর।

১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে ঈশ্বরদীর পাকশী এবং ঈশ্বরদী রেলওয়ে স্টেশনে ওই বোমা এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে।

পাবনা জজ আদালতের পিপি আক্তারুজ্জামান মুক্তা জানান, ১৯৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা সাংগঠনিক সফরে খুলনা থেকে রাজশাহীর অভিমুখে ট্রেনযোগে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে ঈশ্বরদী স্টেশনে তার একটি নির্ধারিত পথ সভা ছিল।

শেখ হাসিনাকে বহনকারী ট্রেনটি পাকশী স্টেশনে পৌঁছার পরপরই ওই ট্রেনে ব্যাপক গুলিবর্ষণ ও বোমা হামলা চালানো হয়। ট্রেনটি ঈশ্বরদী এসে পৌঁছালেও একইভাবে বোমা ও গুলিবর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় ঈশ্বরদী জিআরপি থানার তৎকালীন ওসি নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই দিনই একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি চূড়ান্ত রিপোর্ট দিয়ে শেষ করে দেয়ার চেষ্টা করেছিল সে সময়ের সরকার। তারই অংশ হিসেবে ওই মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করা হলে আদালত তা গ্রহণ না করে মামলাটি সিআইডিতে স্থানান্তর করেন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ৫২ জনের বিরুদ্ধে এ মামলার চার্জশিট দাখিল করে সিআইডি পুলিশ। এ মামলায় সরকার পক্ষে ৩৮ জন সাক্ষী তাদের সাক্ষ্য প্রদান করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর  (পিপি) অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা বলেন, আমরা বিজ্ঞ আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। আমরা বলেছি- সেই দিনের ঘটনার সঙ্গে সব আসামিই জড়িত।

‘যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালতের বিচারক আগামী বুধবার মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেছেন। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা আদালতের কাছে আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি আবেদন করেছি।’

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ উত্থাপন করতে পারেননি। আদালত উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। ন্যায় বিচার হলে অভিযুক্তরা খালাস পাবেন বলে আমরা আশা করছি।






News Room - Click for call