Main Menu

পাবলিক পরীক্ষা যত কম হয় ততই মঙ্গল

পাবলিক পরীক্ষা যত কম হয় ততই মঙ্গল বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী।

তিনি জানান, আজকাল যে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে, তা পর্যাপ্ত নয়। যেটুকুই-বা দেওয়া হচ্ছে, তাও শিক্ষার্থী ঠিকভাবে গ্রহণ করতে পারছে না। তার সার্বক্ষণিক ভয় পরীক্ষার। আমাদের বিদ্যায়তনিক শিক্ষা সব সময়ই পরীক্ষামুখী ছিল, এখন সেটা রীতিমতো পরীক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। যা পড়ানো হচ্ছে, তা পরীক্ষায় পাসের জন্য। পরীক্ষা, বিশেষ করে পাবলিক পরীক্ষা যত কম হয় ততই মঙ্গল।

এর কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে তিনি জানান, পরীক্ষার ব্যাপারে চাপ যত বাড়ে, মূল বই পড়ার প্রয়োজন তত কমে যায়। আর পরীক্ষাগুলোয় যে এমসিকিউ প্রশ্নরীতি চালু রয়েছে, এটা খুবই ক্ষতিকর। এতে শিক্ষার্থীরা এমনকি প্রশ্নটাও ভালো করে বুঝতে চায় না, কেবল এ-বি-সি-ডি-তে দাগ দেওয়ার কায়দা শেখে। আরেক উৎপাদন ‘সৃজনশীল পদ্ধতি’ ছাত্র-শিক্ষক-অভিভাবক কেউই ঠিকমতো বোঝে না। এই পুরো ব্যবস্থা কোচিং সেন্টার ও গাইড বুক ব্যবসাকে সরগরম করে।

সোমবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে (টিএসসি) এক আলোচনাসভায় এসব তথ্য জানান ইমেরিটাস অধ্যাপক।

বিশিষ্ট এ শিক্ষাবিদ জানান, বাংলাদেশে ভালো শিক্ষক পাওয়া এখন একটি বড় সমস্যা। মেধাবীদের শিক্ষকতায় নিয়ে আসতে হবে। জ্ঞানী, একই সঙ্গে সেই জ্ঞানকে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে এবং পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে উৎসাহী—তেমন শিক্ষক দরকার।

তিনি জানান , মেধাবী শিক্ষক হওয়ার অর্থ কেবল জ্ঞানী হওয়া নয়, শিক্ষকতায় আগ্রহীও হওয়া চাই। অন্য চাকরি পায়নি বলে শিক্ষক হয়েছে—এমন লোকদের দিয়ে কুলাবে না। জ্ঞানী, জ্ঞানকে অন্যের কাছে পৌঁছে দিতে এবং পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় নিজেকে সমৃদ্ধ করতে উৎসাহীদের শিক্ষাক্ষেত্রে টেনে আনতে হলে বেতন-ভাতা সম্মানজনক হওয়া চাই। শিক্ষকের বেতন-ভাতা অন্য পেশাজীবীদের চেয়ে বেশি হওয়া বাঞ্ছনীয়, যাতে মেধাবীরা শিক্ষকতায় আসে এবং কোচিং সেন্টারে না গিয়ে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাদানেই নিবিষ্টচিত্ত হয়।

তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার মান অতীতে যে খুব উঁচুতে ছিল এবং এখন যে খুব অধঃপতিত, তা নয়। আসলে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমেছে। তারা আসে, থাকে, চলে যায়। শিক্ষার ব্যাপারে তাদের প্রবল আগ্রহ দেখা যায় না। কারণ, এতে তারা কোনো ভবিষ্যৎ দেখতে পায় না, জীবিকার নিশ্চয়তা দেখতে পায় না। বেকারত্বের সমস্যা ক্রমাগত বাড়ছেই। শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর গ্রহণক্ষমতা খুব বড় ব্যাপার। আগ্রহের অভাব ঘটলে গ্রহণক্ষমতা হ্রাস পায়।






News Room - Click for call