Main Menu

দলিল জাল: আদমদীঘিতে আ. লীগ নেতাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার পৌরসভা এলাকায় কয়েক কোটি টাকা মূল্যের খাস জমির দলিল জাল করে দখল করার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। 

রবিবার (৩০ জুন) বিকালে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়ার সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে এই মামলা করেন। সোমরাব (১ জুলাই)  সন্ধ্যার দিকে  আমলার বাদী আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

আসামিরা হলেন- আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নিসরুল হামিদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সাজেদুল ইসলাম, থানা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আবু রেজা খান, থানা যুবলীগের সভাপতি শাহিনুর রহমান, উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম, থানা কৃষক লীগের সভাপতি মো. হারুন অর রশিদ,  মো. শহিদুল ইসলাম ওরফে হিটলু, তাদের সহযোগী আয়ুব খান ও চন্দন কুমার। এরা জমির ক্রেতা। বাড়ি আদমদীঘি উপজেলায়।

অন্য তিনজন হলেন- আদমদীঘি উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মো. ইউসুফ আলী, দলিল লেখক রাকিব হোসেন ও জমির বিক্রেতা নওগাঁ সদর উপজেলার রবীন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী।

সরকারি তফসিলভুক্ত জমির দুর্নীতি নিয়ে গত ২০ জানুয়ারি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে তদন্তে নামে দুদক।

উপজেলা ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সান্তাহার পৌরসভায় কলসা মৌজায় ১৭৬ নম্বর দাগে জমির পরিমাণ ৩৩ শতাংশ। এর মধ্যে সান্তাহার ইউপির নামে সাত শতাংশ রেকর্ড হয়। বাকি ২৫ শতাংশ উপজেলা পরিষদের নামে আছে। এখানে পুকুর ও দোকান ঘর রয়েছে। এই ৩৩ শতাংশ জমি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে জেলা প্রশাসকের নামে এমআরআর খতিয়ানভুক্ত।

গত বছরের ৪ অক্টোবর সান্তাহার-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের পাশের এই জমির জাল কাগজপত্র দিয়ে আদমদীঘি সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় নিবন্ধিত হয়। ৩৩ শতক জমি বিক্রি করা হয় ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকায়। উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ছিলেন মো. ইউসুফ আলী। জমির ভুয়া মালিক সাজানো হয় নওগাঁ জেলার দুবলহাটি রাজবাড়ী এলাকার বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ রায়কে। দলিল সূত্রে এই জমির মালিকানা দাবি করেন ক্রেতারা।

তবে দুদক মামলার এজাহারে বলছে, ক্রেতারা নওগাঁর বাসিন্দা রবীন্দ্রনাথ নামের এক ব্যক্তিকে দিয়ে ভুয়া নথিপত্র তৈরি করেন। তার কাছ থেকে মাত্র ৯ লাখ ৬৫ হাজার টাকায় ওই জমি কিনে নেন।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সান্তাহারের গুরুত্বপূর্ণ এই জমির বর্তমান বাজারমূল্য ২ কোটিরও বেশি হবে। জমির মালিকানা সংক্রান্ত মূল নথি না থাকলেও সাব রেজিস্ট্রার ইউসুফ ও দলিল লেখক সরকারি সম্পত্তির দলিল সম্পাদন করেন। আসামিরা পারস্পরিক যোগসাজশে জাল দলিল করেছেন। তাদের অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

জমির সাজানো মালিক রবীন্দ্রনাথ এই জমির খাজনা দেওয়া সম্পর্কে কিছুই জানেন না দাবি করে বলেন, দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার বেদখল জমি আছে। তিনি সেগুলোর খোঁজ জানেন না। কোন জমি তার কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে তাও তিনি জানেন না।

জানতে চাইলে আদমদীঘি উপজেলার সাব রেজিস্ট্রার ইউসুফ আলী বলেন, উপস্থাপিত কাগজপত্রের আলোকে জমি নিবন্ধন আইন ও বিধি মোতাবেক জমি নিবন্ধন করা হয়েছে। এর সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।






News Room - Click for call