Main Menu

ফেনীতে আবারও ‘লংকা পাওয়ারের’ কাজ বন্ধ করল স্থানীয়রা

ফেনী শহরের মধ্যম চাঁড়িপুরে বাড়ির গেইট ও রাস্তায় পাইলিং করায় লংকা পাওয়ারের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা।

গত কয়েক দিন ধরে ওই এলাকার সড়কে এবং নুর উল্যাহ ও মহি উদ্দিনের বাড়ির গেইটে যন্ত্রপাতি এনে পাইলিং শুরু করলে প্রতিবাদ উঠে। তারা এ বিষয় আমোলে না নিলে একপর্যায়ে শনিবার (২২ জুন)কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শহরের চাঁড়িপুর এলাকায় চলাচলের রাস্তায় যন্ত্রপাতি ও পাইলিং সরঞ্জাম রেখে বন্ধ করে দেয়। ফলে যানবাহনে শহরের সঙ্গে যোগাযোগ অচল হয়ে পড়ে। গতকাল শনিবার দুপুরে পাইলিং করতে এলে স্থানীয় আবদুর রব, আবদুল গনি, কোব্বাদ আহাম্মদ, আবদুল নবী, আবুল হোসেন জাপানী, আবদুল মতিন, মিজানুর রহমান বিষয়টি জানতে চান এবং কাজে বাঁধা দেন।

খবর পেয়ে ফেনী লংকা পাওয়ার লিমিটেড এর সাইট ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান ঘটনাস্থলে আসেন। তখন স্থানীয়রা তাদের বাড়ি-ঘরের উপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নিতে নিষেধ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্দিক উল্যাহ জানান, ব্যক্তি মালিকানার জায়গা দখল করে কোনো ধরনের অনুমতি ছাড়াই ফেনী লংকা পাওয়ার লিমিটেড এর সাইট ইঞ্জিনিয়ার (ইলেট্রিক্যাল) মাহমুদুর রহমান কাজ শুরু করেন। তারা চলাচলের একমাত্র রাস্তায় যন্ত্রপাতি ও পাইলিং সরঞ্জাম রেখে বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুর রব বলেন, অন্যের জায়গায় অনুমতি না নিয়ে এবং কারো সাথে আলাপ না করে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। কারো কথা না শুনায় স্থানীয়রা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছে। প্রথম সার্ভেতে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তির জায়গার উপর দিয়ে লাইন যাওয়ায় ভয়ে তারা কৌশলে সার্ভে পরিবর্তন করে ফেলে। পরে তারা মানুষের ভিটে-ভূমির উপর লাইন নির্মানের চেষ্টা চালায়।

আবদুল গনি নামের স্থানীয় আরেক বাসিন্দা জানান, আমাদের বাড়ি-ঘরের জায়গার উপর দিয়ে হাই-ভোল্টেজের লাইন গেলে ভবিষ্যত প্রজন্মর জীবন ঝুঁকিতে পড়বে। তাই আমরা চাইনা আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে এই লাইন নির্মিত হোক।

ফেনী লংকা পাওয়ার লিমিটেড এর সাইট ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা বাংলাদেশ সরকার ও স্থানীয় কাউন্সিলরের অনুমতি নিয়ে কাজ করছি। যাদের জায়গায় পাইলিং হচ্ছে তাদের সঙ্গে আগেই কথাবার্তা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুরে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রতারণার ফাঁদে ফেলে জমি জবরদখল করছে ‘ফেনী লংকা পাওয়ার লিমিটেড’। এক শ্রেণির প্রতারণাকারীদের যোগসাজশে জমির নামমাত্র মূল্য দিয়ে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নেয়।
এর আগে ওই প্রতিষ্ঠানটি জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর জাল করে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়ে। ওই গণবিজ্ঞপ্তির হুমকি-ধমকি দিয়ে সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের কাশিমপুর, মাথিয়ারা, পাঁচগাছিয়া, বাথানীয়া ও পৌরসভার চাঁড়িপুর মৌজায় জমি অধিগ্রহনের চেষ্টা করলে পাঁচগাছিয়া মৌজায় এলাকাবাসীর বাধায় কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।






News Room - Click for call