Main Menu

পল্লবীতে মাদক ব্যবসা চালাতে যত কৌশল।

রাজধানীর পল্লবী লাল মাটিয়া টেম্পু স্ট্যান্ড ‘চৌরাস্তা মোড়েই’ পুলিশ ক্যাম্প। সেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে শুক্কুর মাতবরের পোড়াবস্তি ও আরেক পাশে বাউনিয়াবাধ ডি-ব্লক। অন্যদিকে বিহারি ক্যাম্পে দিনরাত চলছে মাদকের কারবার। আর এ মাদক ব্যবসা চালাতে ভিন্ন ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এভাবে পুলিশের নাকের ডগায় মাদক ব্যবসা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। মান্নান ক্ষমাতাসীন দলের নেতা আলতাফ মিয়ার ভাগ্নী জামাই  সে নিজেও দল করে সেই সুবাদে ঘরের ভিতর পলিথিন ব্যবসার আড়ালে মাদকের কারবারি করে বলে স্থানীয়রা বলেন। ভাষানটেক, ক্যান্টনমেন্ট পল্লবী থানায় একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

গত দুই দিন লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ডে গিয়ে দেখা যায়, পল্লবী থানা বিট পুলিশ বক্স থাকলেও সেখানে নেই কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। সড়কে পুলিশ বক্স করায় একপাশে সড়কে বাজার বক্সের অন্যপাশে হয়েছে ট্রাক স্ট্যান্ড। লালমাটিয়া টেম্পুস্ট্যান্ডসহ বাউনিয়াবাধ এলাকায়  সেখানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ হাজার মানুষের বসবাস। সরু আঁকাবাঁকা পথ। বাউনিয়াবাধ রাস্তার পুর্ব পাশে কালভার্টের   এপাশে পল্লবী থানা ওপাশে ক্যান্টনমেন্ট থানার শুরু।

বাউনিয়াবাধ এলাকার এক  দোকানি বলেন, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ইয়াবা কেনাবেচা ও গাঁজার আসর বসে। পরিবহনশ্রমিক ও পোশাক কারখানার শ্রমিকেরাই মূলত মাদকের ক্রেতা। মাঝেমধ্যে পুলিশ এসে ইয়াবা, গাঁজাসহ দু-একজনকে আটক করলেও টাকা নিয়ে ছেড়ে দিয়ে যায়। এক তরুণ এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘বাবা লাগবে নাকি, পুরোনো লোক অইলে রাতে আইসেন।

স্থানীয় যুবলীগের নেতা পরিচয়ে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যবসার আড়লে মাদকের ব্যবসা করে আসছে মান্নান। মান্নানের আপন বোন কুলসুম ইন্টারনেটের মাধ্যমে ফেসবুক ইমুসহ ইত্যাদি ভিডিও কলে নগ্ন শরীর প্রদর্শন করে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারণা করে মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার ও অভিযোগ উঠে। তার মা চিনু বেগম প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য নিজের শরীরের কাপুড় ছিড়ে ও মাথা ফাটিয়ে থানায় গিয়ে অভিযোগ দেয়। স্থানীয়রা বলেন, মাদক মান্নান ও তার বোন কুলসুম, তাদের মা চিনু বেগমসহ পুরো পরিবারের লোকজন অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত।

সুত্রে: মান্নান যুবলীগের পরিচয় দেয় তার বোন আওয়ামিলীগের বিভিন্ন নেতা ও প্রসাশনের লোকদের সাথে গভির সম্পর্ক রয়েছে তাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে  ভয়ে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতে সাহস করেনা। এসকল বিষয় অস্বীকার করে মান্নান বলেন, আমার বিরুদ্ধে এসকল মিথ্যা মামলা দিয়েছে, আমি কোনো মাদক বিক্রি করিনা। সব কয়টা মামলায় আমি জামিনে আছি। বোন কুলসুম এর বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বোন যদি কোনো অপকর্ম করে থাকে সে বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা, আমি যুবলীগের রাজনীতি করি,আমরা আওয়ামিলীগ পরিবার।

অন্যদিকে বাউনিয়াবাধ এলাকার যুবলীগ নেতা আলতাফ মিয়ার ভাগ্নীকে বিয়ে করেন মান্নান বিয়ের কিছুদিন পর হইতে যৌতুকের জন্য আলতাফ মিয়ার ভাগ্নীকে শারিরিক ও মানুষিক নির্যাতন শুরু করে এক পর্যায়ে তাদের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটে।

স্থানীয়রা বলেন, মান্নান নিজের সকল অবৈধ ব্যবসাকে চাঙ্গা করতে রাজনৈতিক  নেতানেত্রীদের ছবি লাগিয়ে অপরাধ কর্মকান্ড করে থানা-পুলিশ ম্যানেজ করে।

মান্নানের বিরুদ্ধে ক্যান্টনমেন্ট থানা, পল্লবী থানা,ভাষানটেক থানায় মামলা রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে মাদকের তিনটি, অস্ত্র মামলা একটি,  বিস্ফোরকদ্রব্য মামলা একটি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক মান্নানের বিরুদ্ধে  কেউ প্রতিবাদ করলে তার বোন কুলসুম ও মা চিনি বেগম পড়নের কাপুড় ছিড়ে মামলা দিবে পুলিশ ও  তদম্ত ছাড়াই তাদের কথা মত মামলা নেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তারা আরো বলেন, রাত ১০টার পর থেকে হারুন মোল্লা ক্লাবের পিছনে আনন্দ নিকেতন স্কুলের ভিতর যুবকের আনাগোনার হিড়িক  মাদক বিক্রি ও সেবনে ব্যস্ত থাকে। বাউনিয়াবাধ  বি-ব্লকে ফতের স্পট, কলাবাগান নায়েম চেয়ারম্যানের বস্তি মাদকের রমরমা বানিজ্য।

‍ইয়াবা বহনকারী এক যুবক বলেন, দুই পন্থায় মাদক ব্যবসা হয়। ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তাঁদের পরিচিত গ্রাহকদের চাহিদামতো ইয়াবা বাসায় পৌঁছে দেন। সে ক্ষেত্রে প্রতিটি ইয়াবার দাম নেওয়া হয় ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা। এ ছাড়া বাউনিয়াবাধে ছোট্ট খুপরিতে রাতভর মাদক বেচাকেনা হয়। বাসায় বাসায় ইয়াবা পৌঁছানোর জন্য তাঁদের ১৫ জন লোক আছে।

এ ছাড়াও অভিযোগ উঠে,  মিরপুর-১১ বিহারি ক্যাম্পের ক্ষমতাধর নেতা মুস্তাকের দুই ছেলে মিষ্টার ও ইমতিয়াজ মাদকের ডিলার তারা নির্বিঘ্নে স্থানীয় কাউন্সিলরকে খুটি বানিয়ে মাদক নির্মুল কমিটির নাম করে ১৫০ জন সদস্যের মাধ্যমে বিহারি ক্যাম্প গুলোসহ বিভিন্ন বস্তিতে মাদক পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করে। কিছুদিন আগেও বিহারি মুস্তাকের ছেলে ইমতিয়াজের মাদকের ব্যবসার প্রতিবাদ করায় বিপ্লব নামে এক তেল ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে মেরে ফেলে। নিহতের পরিবার পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিহারি ক্যাম্পের অধীনে বসবাস কারী বাঙালিদের সব সময় কোনঠাসা করে রাখে। কাউন্সিলর  কাজী জহিরুল ইসলাম মানিকের কাছে বিহারিদের কোনঠাসার বিষয়ে অভিযোগ দিলেও মানিক আমলে না নিয়ে তা সমাধানের জন্য কোনঠাসা প্রয়োগকারী বিহারি নেতা মুস্তাকের কাছেই ফেরত পাঠায়। ২০০৮ সালের পর বিহারিরা বাংলাদেশের নাগরিকত্বপান এখন বর্তমানে তারাই এলাকার সকল শক্তিধর নেতা।

সুত্র জানায়  প্রতিদিন বাউনিয়াবাধ, পলাশনগর ও বিহারি ক্যাম্প এলাকায় প্রায়ই দশ হাজার ইয়াবা বড়ি বেচাকেনা হয়। বাসায় বসে ইয়াবা কেনা ক্রেতাদের বেশির ভাগই কিশোর শিক্ষার্থী, চিকিৎসক। স্পট থেকে থেকে যারা মাদক খুচরা ক্রয় করে তারা বেশির ভাগ, ট্রাক স্ট্যান্ডের  চালক ও অটোরিকশার চালক ও স্থানীয় রাজনৈতিক বিভিন্ন দলের পরিচয়ে কর্মীরা।

পল্লবী ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দরা বলেন, মাদক বিক্রি কারা করে প্রসাশনের লোকজন অনেকেই জানে। প্রসাশনের লোকজন মাঝে মধ্যে দুএকজন ধরে আটক করে পরে ছেড়েও দেয়।

যুবলীগ নেতা পরিচয় দানকারী মাদক ব্যবসায়ী মান্নানের বিষয়ে জানতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী বলেন,বাউনিয়াবাধ মান্নান নামে কাউকে চিনি না। যুবলীগের কোনো মিটিং মিছিলেও তাকে দেখিনি এবং মাদকের সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি যুবলীগে থাকতে পারবেনা।

বাউনিয়াবাধ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে নতুন ওসির কঠোর ভুমিকা দেখতে চায় স্থানীয়রা।






News Room - Click for call