Main Menu

কালিয়ায় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জনগনকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নড়াইলের নড়াগাতি থানার পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ মোল্লার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জনগনকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সম্প্রতি ভুমি অফিসে গিয়ে জানা গেছে তার অনিয়মের তথ্য। গনমাধ্যমের উপস্থিতি বুঝতে পেরে তার কাছে সেবা নিতে আসা পহরডাঙ্গা গ্রামের ওয়ালেদ শেখ কে বলেন দুপুর ২ টার আগে কোন দাখিলা দেওয়া হয়না। তিনি যোগদানের পর থেকেই পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি অফিসে মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া খাজনা, খারিজ, পর্চাসহ অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কোন কাজ হয় না বলে অভিযোগ ভূক্তভোগীদের।

কালিয়া উপজেলাধীন পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মাহমুদ খাজনার দাখিলার জন্য (ভূমি উন্নয়ন কর ) সরকার নির্ধারিত ফি’র চেয়েও অতিরিক্ত টাকা আদায় করলেও রশিদ দিচ্ছে সরকারি হিসাবেই।

ইউনিয়নের পহরডাঙ্গা গ্রামের মোঃ রহুল সিকদার বলেন, তার সাড়ে ৩১ শতাংশ জমির খাজনার দাখিলার জন্য ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। কিন্তু মোঃ রহুল সিকদারের পক্ষে এতো টাকা দেয়া সম্ভব হবে না জানালে অফিস সহকারী জাহিদ বলেন,আমাকে ২০০০ হাজার টাকা দিলে স্যার কে বলে কমে কাজ করায় দিবো। পরে বাধ্য হয়ে ১২ আগষ্ট দপুরে ধার-দেনা করে ৬ হাজার ৫০০শ টাকা দিয়ে খাজনার রসিদ সই করতে দেয়া হয়। অথচ খাজনা দাখিলায় ৭৭৫৫৪৬ নং রসিদে ৯৯৮ টাকা, ৭৭৫৫৪৫ নং রসিদে ৪৭১ টাকা এবং৭৭৫৫৪৪ নং রশিদে ৪৬২ টাকা সর্বমোট ১৯৩১ টাকা জমার রসিদ দেয়া হয়।বাকি টাকা অফিস সহকারী জাহিদ ও ভূমি কর্মকর্তা ভাগ বাটোয়ারা করে নেয়। এ সময় তিনি (ভূমি কর্মকর্তার ) জানান, কেউ অভিযোগ দিলে টাকা ফেরত দেবার কথা তবে টাকা ফেরত না নিয়ে এর নায্য বিচার দাবি করেন ওই হত-দরিদ্র বয়োবৃদ্ধ ভুক্তভুগি।

সরসপুর গ্রামের ওহিদুজ্জামান মোল্লা বলেন, সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ মোল্লা নিয়মিত অফিস করেন না। তিনি কাজের জন্য পর পর ৩ দিন অফিসে আসলেও ১ দিনও অফিসে পাননি ভূমী কর্মকর্তাকে।

এছাড়া বাগুডাঙ্গা, চাপাইল ও পহরডাঙ্গা গ্রামের একাধিক ব্যাক্তি অভিযোগ করে বলেন, মোটা অংকের ঘুষ ছাড়া খাজনা, খারিজ, পর্চাসহ অন্যান্য ভূমি সংক্রান্ত কোন কাজই করেন না ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ মোল্লা। কেউ টাকা দিতে অপারগতা জানালে তাকে জিম্মি করে কাজ আটকিয়ে রেখে এমনকি মামলা দিয়ে তার মালামাল বাজেয়াপ্ত করার হুমকি দিয়ে সাধারন জনগনের কাছ থেকে টাকা আদায় করে। এমনকি সে নড়াইল সদরের ছেলে বলে তাকে কেউ কিছু করতে পারবে না বলেও থাকে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ মোল্লা অতিরিক্ত টাকা নেয়ার কথা এড়িয়ে বলেন তার অফিস সহকরী জাহিদ নিতে পারে। টাকা জাহিদ নেয়। আমাকে জাহিদ টাকা দিলে আমি দাখিলা দেই। তিনি আরো বলেন, আমার কাছ থেকে জদি কেউ সুযোগ নেয় তাহলে তো আমাকে ও কিছু দিতে হবে।

কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজিবুল আলম বলেন, পহরডাঙ্গা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ মোল্লার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জনগনকে জিম্মি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ আপনাদের মাধ্যমে জানতে পারলাম। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।






News Room - Click for call