Main Menu

চট্টগ্রামে সিরিয়াল রেপিস্ট বেলাল ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত

চট্টগ্রামের বায়েজীদে শিশু ধর্ষণকারী ‘সিরিয়াল রেপিস্ট’ হিসেবে সন্দেহভাজন বেলাল দফাদার পুলিশের সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দিনগত মধ্যরাতে শান্তিনগর এলাকার পাহাড়ে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি অস্ত্র এবং ইয়াবা উদ্ধার করেছে। গত ৬ মাসে এই শান্তিনগর এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় সাত শিশু। আর এসব ধর্ষণের জন্য স্থানীয়রা বেলাল দফাদারকে সন্দেহ করে। এর আগে ২০১৬ সালে দু’শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ বেলাল দফাদারকে একবার গ্রেফতার করেছিল। জামিনে এসে সে আবার শিশু ধর্ষণের সাথে সম্পৃক্ত হয় বলে দাবি পুলিশের।
বায়েজীদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা -ওসি প্রিটন সরকার সময় সংবাদকে বলেন, ‘শান্তিনগরের পেছনের যে বড় পাহাড়ি এলাকা রয়েছে সেখানেই পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে বেলাল দফাদারের পাশে অস্ত্র এবং ইয়াবা পড়ে থাকতে দেখা যায়।’
বুধবার (২২ জুলাই) সময় টেলিভিশনে বায়েজীদ এলাকার এই শিশু ধর্ষণ এবং সিরিয়াল রেপিস্ট বেলাল দফাদারকে নিয়ে সংবাদ প্রচারিত হয়। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উত্তর জোনের উপ কমিশনার বিজয় বসাক বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে নিয়েই তদন্ত করছিলাম।’
চট্টগ্রামের বায়েজীদ শান্তিনগরে গত ৬ মাসে একই সময়ে একই পন্থায় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে ৭ শিশুকে। গত ১৫ দিনে ধর্ষণ হয়েছে ২ শিশু। ধরা-ছোঁয়ার বাইরে রয়ে যাওয়ায় সে।
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে এক শিশুকে বলাৎকারের মাধ্যমে ধর্ষণকাণ্ড শুরু হয় সিরিয়াল রেপিস্টের। সবশেষ গত ২০ জুলাই বিকেলে ধর্ষণের শিকার হয় ৭ বছরের এক শিশু। অবশ্য তার আগে ফেব্রুয়ারি মাসে দু’জন, এপ্রিল মাসে একজন, জুন মাসে একজন এবং জুলাই মাসে একজনসহ আরো চার শিশু কন্যা ধর্ষণের শিকার হয়েছে ওই এলাকায়। আলামত নষ্ট করতে ধর্ষণের শিকার শিশুদের পরনের রক্তাক্ত কাপড় ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি তাদের গোসল করিয়ে দিতো ওই ধর্ষক।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই সময়ে এবং একই পন্থায় শান্তিনগর এলাকা থেকে সিএনজি চালিত অটোরিকশা করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এসব শিশুদের। অজ্ঞাতস্থানে ধর্ষণের পর তাদের আবার সেই অটো রিকশা করেই রাস্তার মাঝে ছেড়ে দেয়া হয়। এমনকি শিশুরা কান্নাকাটি করলে ছুরি দেখিয়ে হত্যা করার ভয় দেখাত সে।

৬টি ধর্ষণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বায়েজীদ থানায় চারটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছিল। বন্দুকযুদ্ধে সন্দেহভাজন বেলাল দফাদার মারা যাওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে, কখনো চকলেট দেয়ার প্রলোভনে, কখনো আবার টাকার বিনিময়ে লাকড়ি তুলে দেয়ার নাম করে শিশুদের অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যেত সে।






News Room - Click for call