Main Menu

পাপুলের স্ত্রী-শ্যালিকা দুদকে হাজির

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস‌্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম ও শ‌্যালিকা জেসমিন দুদকে হাজির হয়েছেন।
লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস‌্য (এমপি) কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি সেলিনা ইসলাম ও শ‌্যালিকা জেসমিন দুদকে হাজির হয়েছেন।
বুধবার (২২ জুলাই) সকালে তারা দুদকে হাজির হন। কুয়েতে দণ্ডপ্রাপ্ত পাপুলের অবর্তমানে এই জিজ্ঞাসাবাদের ওপর নির্ভর করছে অবৈধ সম্পদ অর্জনে দুদকের অনুসন্ধান। দুদকের তলবী নোটিশের প্রেক্ষিতে আজ সকালে তারা দুদকে হাজির হলে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
এর আগে ১৭ জুন অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল, স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলাম, মেয়ে ওয়াফা ইসলাম ও সেলিনার বোন জেসমিনকে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে চিঠি দেয় দুদক। এমপি পাপুল, তার স্ত্রী, মেয়ে ও শ্যালিকার ব্যক্তিগত বিভিন্ন নথিপত্র তলব করা হয়।
লক্ষ্মীপুর-২ এর সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে এনআরবি ব্যাংকের গ্রাহককে লোন বরাদ্দ করাসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানে পাপুলের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এছাড়া পাপুলের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ মানিলন্ডারিং করে বিদেশে পাচার এবং শত শত কোটি টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে। তারই অনুসন্ধানে পাপুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম ও শ্যালিকা জেসমিন প্রধানকে তলব করেছে দুদক।
সম্প্রতি কুয়েতে মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগে আটক করা হয় লক্ষ্মীপুর-২ এর সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুলকে। বর্তমানে তাকে ঘুষ দেওয়া, মানব ও অবৈধ মুদ্রা পাচার এবং রেসিডেন্ট পারমিট বিক্রির অভিযোগে কারাভোগ করতে হচ্ছে কুয়েত কারাগারে।
দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়, ৫০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন পাপুল। আর স্ত্রীর নামে একই ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে অংশীদার হয়েছেন। গুলশান-১ এর ১৬ নম্বর সড়কে গাউসিয়া ডেভেলপমেন্টের প্রকল্পে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট, গুলশান-২ এর পিংক সিটির পেছনে গাউসিয়া ইসলামিয়া প্রকল্পে স্ত্রীর নামে ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট, স্ত্রী ও নিজের নামে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৯১ কোটি টাকার সম্পদ আছে।
এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এই পরিচালক বিদেশে ব্যবসার আড়ালে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৮০ কোটি টাকা হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেছেন। এ টাকার মধ্যে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতিঝিল শাখার একটি হিসাবের মাধ্যমে ১৩২ কোটি টাকা ও প্রাইম ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা পাচার করেন। ইউসিবিএলের মাধ্যমে ১০ কোটি ও প্রাইম ব্যাংকে ঋণ সৃষ্টি করে ১০ কোটি টাকা পাচার করেন। বাকি টাকা পাপুল তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং জেডডব্লিউ লীলাবালি নামক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করেন। কয়েকজন ব্যাংক মালিক অর্থপাচারে পাপুলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে মানবপাচার, ভিসা বাণিজ্য ও অর্থ পাচার সংক্রান্ত অপরাধে কুয়েতে পাপুলকে গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরে উঠে আসে কীভাবে তিনি মানুষকে প্রতারিত করে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন এবং এই কাজে তাকে কুয়েতের প্রভাবশালী সরকারি কর্মকর্তারা সহায়তা করেছে ঘুষ, উপহার ও অন্যান্য সুযোগের জন্য। পাপুলের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন ১১ প্রবাসী বাংলাদেশি। সেখানেও উঠে আসে নানা তথ্য।





News Room - Click for call