Main Menu

ফকিরহাটে ভাতা কার্ড বাণিজ্যে এগিয়ে পিলজংগ ইউনিয়ন

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর বিশেষ বরাদ্ধের আওয়তায় বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বয়স্ক বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা নির্বাচনে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাছাড়াও বই জমা দেয়ার সময় অফিস খরচের কথা বলে ৫০০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফকিরহাট উপজেলায় বয়স্ক ও বিধবারা প্রতি মাসে ৫শত টাকা হারে ও প্রতিবন্ধীরা প্রতিমাসে সাড়ে ৭ শত টাকা হারে তিন মাস পর এ টাকা পাবেন।

পিলজংগ ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের নিমাই শীল অনেক বয়স্ক একজন বৃদ্ধ, চোখে দেখতে পায়না, পরিবারের সদস্যদের উপর ভড় করেই তার চলাফেরা। তার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, পিলজংগ ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাধন কুমার দে বয়স্ক ভাতা কার্ড বাবদ ৫০০ (পাচশত) টাকা গ্রহণ করে। এবং বলেন, কার্ড করতে গেলে টাকা দিতে হয়।

একই ওয়ার্ডের খলিলুর রহমানের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সাধন কুমার দে আমার থেকে ৫০০ টাকা নিয়েছে কার্ড করার জন্য। সাধন ভুক্তভোগী খলিলুর রহমানকে বলেন, ৫০০ টাকা দেও কার্ড করে দিচ্ছি।

আবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেছে, টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় অনেক অতিদরিদ্র বৃদ্ধ-বৃদ্ধা, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তির সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। শুধু তাই নয় ভিজিডির কার্ডের চাল আনতে গেলেও ক্যারিং খরচ বাবদ দিতে হয় ১০ টাকা করে। আবার অনেকেই আছে অর্থ সম্পত্তি থাকা সত্তেও ভাতা কার্ড বহন করছে। কিন্তু অনেক অসহায় ও অসচ্ছল পরিবার আছে যারা ইউপি সদস্যদের টাকা দিতে না পারাই কার্ডের মালিক হতে পারেনি।

এখানেই শেষ নয়, সরেজমিনের অনুসন্ধ্যান করতে গিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডেও হয়েছে এমন বানিজ্য। ৬নং ওয়ার্ডের মৃত নূর মোহাম্মাদ বিশ্বাস এর স্ত্রী হামিদা বেগম আবেদন করেছিলেন বিধবা ভাতা প্রাপ্তির জন্য। আবেদনের বিপরীতে ইউপি সদস্য মোস্তফা কামাল হারুন নিয়েছে ২০০ টাকা। হামিদা বেগমের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কাগজ পত্র জমা দেওয়ার সময় আমার থেকে ২০০ টাকাও নিয়েছিলো। আমাকে বলেছিলো কাগজ পত্র জমা দেবার সময় ২০০ টাকা জমা দেওয়া লাগে।

একই ওয়ার্ডের শাহাজাহান সর্দারের ছেলে মোঃ ইমরান সর্দার একজন প্রতিবন্ধি। ইমরান সর্দারের সাথে কথা হলে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার শাহানাজ পারভীন পাখী আমার থেকে কাগজ পত্র নিয়ে বলেছে আমাকে টাকা দেবে। তার জন্য আমার কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়েছিলো একাউন্ট খোলার কথা বলে ও সই করার জন্য নিয়েছিলো ৫০ টাকা।

শুধু চারজন ভুক্তভোগীই নয় ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে রয়েছে এমন দুর্নীতির ছোয়া। ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দাবী, অনিয়মের দিক থেকে পিলজংগ ইউনিয়ন রয়েছে শীর্ষে।

পিলজংগ ইউনিয়নের ইউপি সদস্য , ইউনিয়ন পরিষদের সচিব এবং তথ্যসেবা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা মৌসুমি সহ চেয়ারম্যান পলাশ এর বিরুদ্ধে এ সকল অভিযোগ পাওয়া গেছে। সাংবাদিকদের দেখে স্থানীয় অনেক সাধারণ মানূষ জানিয়েছে তাদের ক্ষোভের কথা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেকেই বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান শামীম জামান পলাশের যোগসাজশে দুর্নীতি করে যাচ্ছে মৌসুমী সহ ইউপি সদস্যরা।

এ ব্যাপারে পিলজংগ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খান শামীম জামান পলাশের সাথে কথা বলার জন্য তার মূঠোফোনে বারবার দেওয়ার পরও তিনি ফোন ধরেননি।

ইউনিয়নের উদ্যোক্তা মৌসুমীর বিরুদ্ধে এর আগেও অনেক দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকা সত্তেও বহাল তবিয়াতে পরিষদে কাজ করে যাচ্ছেন। দুই চারটি বিষয়ে নয়, সরকারের প্রতিটি উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ডে দূর্নীতির ছোয়া লেগেছে অত্র ইউনিয়নে। এমনটাই দাবী করছেন ইউনিয়নের সাধারণ মানুষেরা। ইউনিয়নে বিতরণকৃত বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, প্রতিবন্ধি ভাতা, ভিজিডি কার্ডের জন্যও অবৈধভাবে অফিস খরচের নাম করে এভাবেই অর্থ আদায় করে আসছে ইউনিয়নের হর্তাকর্তারা।

ফকিরহাট উপজেলা সমাজসেবা অফিসার সবুর আলী সাংবাদিককে জানান, ভাতা কার্ড সুবিধাভোগীর একাউন্ট খোলা বাবদ ১০ টাকা প্রদান করতে হয়। ১০ টাকার বেশি নেওয়া হয় এমন কেউ যদি আমাদের কাছে অভিযোগ করেন তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন দাশ’র সাথে কথা হলে তিনি বলেন, ফকিরহাটে কোন প্রকার দূর্নীতি আমরা মেনে নিবোনা। যদি কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আসে তাহলে সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো খুব দ্রুত।

বাংলাদেশ সরকার উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় অদম্য শক্তি নিয়ে যখন এগিয়ে চলছে, ক্ষুদা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করছে ঠিক তখনি অসাধু ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের যোগসাজশে গরিবের অর্থ লোপাট করছে। এমন অসাধু চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের অচিরেই কঠিন শাস্তির আওতায় আনার দাবী সাধারণ মানুষের। এমন পদক্ষেপ গ্রহণেই সোনার বাংলা গড়া সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।






News Room - Click for call