Main Menu

ভাঙ্গা উপজেলার ৩ গ্রামের ৫ শতাধিক মানুষ নির্যাতনের স্বীকার, মানবেতর জীবন যাপন

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামে সহিদ মাতুব্বর হত্যা কান্ডের পর থেকে ৩ গ্রামের ৫ শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। মৃত্যু সহিদ মাতুব্বরের আপনজনকে বাদী না করে তাদের দলের মাতুব্বর মামলাবাজ গ্রাম্য চাচা শাহজাহান মুন্সী বাদি হয়ে প্রকৃত ঘটনা আড়াল করে ওসমান মাতুব্বর দলের ৫৪ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার ভয়ে গ্রামে পুরুষ শুন্য হয়ে পড়লে শাহজাহান মুন্সী সহ তার লােকজন আসামীর বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুঠপাট ও হামলা চালায়।

এই হত্যা মামলা সহ সকল ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের জন্য আঃ সােবহান শেখ বাদি হয়ে ফরিদপুর পুলিশ সুপার বরাবরে একটি লিখিত অভিযােগ দায়ের করেন।

অভিযােগের ভিত্তিতে জানা যায়, ঘরের চালের পানি পড়াকে কেন্দ্র করে গত ২১ এপ্রিল ফাজিলপুর গ্রামের রােকমান ব্যাপারী ও রহিচ ব্যাপারী সাথে ঝগড়া হয়, এরই ধারাবাহিকতায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে শাহজাহান মুন্সী লােকজন নিয়ে রােকমান ব্যাপারীর দলের লতিফ মাতুব্বরের বাড়িতে আতর্কিত হামলা চালায়। এই হামলায় সহিদ মাতুব্বর সহ উভয় দলের ১০/১২ জন লােক আহত হয়।

আহতদেরকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সহিদ মাতুব্বর মারা যায়। সংবাদ পেয়ে ভাঙ্গা থানার এডিশনাল এসপি মােঃ রবিউল ইসলাম ও ওসি মােঃ শফিকুর রহমান ঘটনাস্থলে পৌছিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ আনে।

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দেশীয় অস্ত্র সহ শাহজাহান মুন্সীর দলের ৭ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে। পরদিন ২২ এপ্রিল শাহজাহান মাতুব্বর বাদি হয়ে ৫৪ জনকে আসামী করে একটি ও পুলিশ বাদি হয়ে দেশীয় অস্ত্র আইনে ৭ জন সহ আরো একটি ও লুঠপাটের মামলায় ৯৩ জনকে আসামী করে ভাঙ্গা থানায় মােট ৩টি মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের নির্দেশ ক্রমে মামলার আসামী না হওয়া ব্যাক্তিরা নিজ বাড়িতে এসে ধানকাটা সহ অন্যান্য কাজকর্ম করার অনুমতি দেন।
অনুমতি পেয়ে গ্রামের লােকজন বাড়ী ফিরে এলে ওসমান মাতুব্বর ও হবি খাঁ দলের লােকজনের উপর হামলা ভাংচুর ও লুঠপাট করে। হামলায় আহতও ক্ষতিগ্রস্থরা হল-লক্ষীপুর গ্রামে রেজাউল ও তার স্ত্রী, রুবেল ও তার স্ত্রী মা, লাবু ও আবু তাদের স্ত্রী, মামুন মিয়ার।

কাঠাল গাছ কর্তন, ফাজিলপুর গ্রামের ইয়াদ আলমের উপর হামলা, সুমনের বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করে। এঘটনায় রেজাউল ও লুৎফর ভাঙ্গা থানায় অভিযােগ করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

এ ব্যাপারে অভিযােগকারী আঃ সােবহান বলেন, সহিদ হত্যা মামলার আপনজন কাউকে বাদী বা সাক্ষী না করে সত্য ঘটনা আড়াল করে মামলাবাজ শাহজাহান বাদী হয়ে নিরহ লােকজনকে আসামী করে মামলা করে। যাহা পুলিশের তদন্তে আসল সত্য ঘটনা বেরিয়ে আসবে। এখনও শাহজাহান সহ তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাদের আওয়ামী লীগের লােকজনের উপরে হামলা, বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও লুঠপাট করছে। তাদের অত্যাচারে এলাকার ৩ গ্রামের ৫ শতাধিক মানুষ নির্যাতনের স্বীকার হয়েছে। এছাড়া শাহজাহান মুন্সী মামলায় ফাঁসানাের ভয় দেখিয়ে নিরহ লােকজনের নিকট থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযােগ উঠেছে। এরপর আমি ন্যায় বিচারের স্বার্থে ফরিদপুর পুলিশ সুপার বরাবরে সুষ্ঠ তদন্তের জন্য একটি লিখিত অভিযােগ দায়ের করি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মােঃ শফিকুর রহমান জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ২১ এপ্রিল সকালে লক্ষীপুর গ্রামে মারামারির ঘটনায় সহিদ মাতুব্বর মারা যায়। এরপর আমি সহ উদ্বর্তন কতৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
সেই থেকে ঐ এলাকায় পুলিশ মােতায়েন করেছি এবং পুলিশের নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করেছি। হামলার ও ভাংচুরের ঘটনায় অভিযােগ পেয়েছি। তদন্ত করে তাদের দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






News Room - Click for call