Main Menu

হেপাটাইটিস ভাইরাসের অজানা সব তথ্য।। দৈনিক আমাদের পত্রিকা।

জীবনকে সফল করতে চাই নানামুখী পদক্ষেপ, কর্ম। মানুষের জীবনে স্বপ্নের হাত ধরেই সফলতার জাগরণ সৃষ্টি হয় আর সৎ কর্মের মাধ্যমে মানুষ সফলতার দেখা পায় বা সার্থক হয় জীবন। জীবনের এ সফলতার পিছনে ছুটতে আপনার প্রথম শক্তি হচ্ছে স্বাস্থ্য।

প্রবাদে আছে ‘স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।’

বর্তমান সময়ে সারাবিশ্ব ভয়ঙ্কর এক মহামারী দেখা দিয়েছে। কোভিট-১৯ বা নভেল করোনাভাইরাস। এ করোনাভাইরাস চীনের হুবেই প্রদেশ থেকে উৎপত্তি হয়ে সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়ঙ্করী হয়ে, মারা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ, আক্রান্ত লাখ-লাখ। করোনার এ সময়ে আমরা প্রায় ভুলেই গেছি অন্যান্য মরণব্যধির কথা।

হেপাটাইটিস বলতে যকৃতের প্রদাহ (ফুলে যাওয়া) বোঝায়। ভাইরাস ঘটিত সংক্রমণ বা অ্যালকোহলের মত ক্ষতিকারক পদার্থের কারণে ঘটা যকৃতের একটি রোগ। হেপাটাইটিস অল্প কিছু উপসর্গসহ বা কোনো উপসর্গ ছাড়াই ঘটতে পারে। তবে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে জন্ডিস, এনরেক্সিয়া (ক্ষুধমান্দ্য) ও অসুস্থতাবোধ এর লক্ষণ বা উপসর্গ। দুধরণের হেপাটাইটিস দেখা যায়: তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী। তীব্র হেপাটাইটিস ৬ মাসেরও কম স্থায়ী হয়, অন্য দিকে দীর্ঘস্থায়ী হেপাটাইটিস দীর্ঘ দিন ধরে চলতে থাকে। মূলত হেপাটাইটিস ভাইরাসের কারণে এই রোগটির সূত্রপাত, তাছাড়া অ্যালকোহল, নির্দিষ্ট কতগুলো ওষুধ, শিল্প-জৈব দ্রাবক এবং উদ্ভিদের টক্সিক জাতীয় পদার্থের কারণে এই রোগটি ঘটে, আজ হেপাটাইটিস নিয়ে কলাম লিখেছেন, বাংলাদেশের বিশিষ্ট হোমিও গবেষক ডা.এম এ মাজেদ, তিনি তার কলামে লিখেন…

বর্তমানে প্রায় ২৫৭ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস “বি” ও প্রায় ৭১ মিলিয়ন মানুষ হেপাটাইটিস “সি” ভাইরাসে আক্রান্ত। ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ হেপাটাইটিস “বি” আক্রান্ত লোকদের মধ্যে মাত্র ৯ ভাগ ও হেপাটাইটিস “সি” আক্রান্ত লোকদের মধ্যে মাত্র ২০ভাগ লোকের পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় হয়েছে। এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মাত্র ৮ ভাগ হেপাটাইটিস “বি” এবং মাত্র ৭ ভাগ হেপাটাইটিস “সি” রোগী চিকিৎসা নিয়েছে। হেপাটাইটিস “বি” এবং “সি” ভাইরাসের আক্রান্ত ৯০ শতাংশ রোগীই চিকিৎসার বাইরে থাকছে। শুরুতে হেপাটাইটিস চিকিৎসা না করলে তা প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশে বেশ কয়েক লক্ষ মানুষ আজ হেপাটাইটিস-বি ব্যাধিতে আক্রান্ত। তাদের মধ্যে আবার অনেকেই সংক্রামিত। যারা হেপাটাইটিস-বি দ্বারা আক্রান্ত তাদের ২৫ শতাংশ লিভারের দোষে ভোগেন। প্রতি বছর কয়েক হাজার বছর শিশু এই রোগে সংক্রমিত হয়। শরীরে এই ভাইরাস আসে কীভাবে? ভার্টিক্যাল ট্রান্সমিশনের মাধ্যমে এক শরীর থেকে অন্য শরীরে এই ভাইরাস সংক্রমিত হয়। ধরুণ মার শরীরে হেপাটাইটিস বির সংক্রমণ হয়েছে তা থেকে শিশুর শরীরে সংক্রামিত হয়। অধিকাংশ সময়ে শিশুর সংক্রমণ দীর্ঘস্থায়ী হয়ে থাকে। দ্বিতীয় কারণ হল হরাইজন্টাল ট্রান্সমিশন অর্থাৎ এক শরীর থেকে অন্য শরীরে রোগের সংক্রমণ। যেমন ব্লাড ট্রান্সমিশন, যৌন সংসর্গ, ডায়ালিসিস, সূঁচ, সেলুনের ব্লেড ইত্যাদি। হেপাটাইটিস শব্দটি এসেছে প্রাচীন গ্রীক শব্দ “হিপার ” যার অর্থ লিভার এবং ল্যাটিন শব্দ আইটিস যার অর্থ প্রদাহ, অর্থাৎ হেপাটাইটিস বলতে বুঝায় লিভার কোষের গঠনগত পরিবর্তন ও প্রদাহ । আমেরিকান হেরিটেইজ ডিকশনারী অনুসারে হেপাটাইটিস হল লিভারের প্রদাহ যার কারণ সংক্রামক বা বিষক্রিয়ার দ্বারা জন্ডিস, জ্বর, লিভার ইনলার্জ এবং পেটের বেদনা প্রভৃতি।

হেপাটাইটিসের প্রকারভেদঃ-১. হেপাটাইটিস ‘এ’ ভাইরাস ২. হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাস ৩. হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস ৪. হেপাটাইটিস ‘ডি’ ভাইরাস এবং ৫. হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস, নিম্মে হেপাটাইটিস ৫ ধরনের ভাইরাস সম্পর্কে আলোচনা করা হলো.

হেপাটাইটিস এ: হেপাটাইটিস এ রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস্ এ ভাইরাস। এটি সবচেয়ে পরিচিত হেপাটাইটিস রোগ। এটি সাধারণত সেইসব জায়গায় দেখা যায় যেখানে স্যানিটেশন ও বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থা খুব খারাপ। সাধারণত দূষিত খাদ্য ও জল-আহারের মাধ্যমে এর সংক্রমণ ঘটে। এটি স্বল্পমেয়াদি রোগ, যার উপসর্গগুলো সাধারণত তিন মাসের মধ্যে চলে যায়। হেপাটাইটিস এ রোগ হলে ইবুপ্রোফেন জাতীয় পেনকিলার দেওয়া ছাড়া নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। টিকাকরনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস এ প্রতিরোধ করা যায়। সংক্রমণের সম্ভাব্য স্থানগুলোতে যেমন; ভারতীয় উপমহাদেশ, আফ্রিকা, মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকা, দূরপ্রাচ্য এবং পূর্ব ইউরোপ যাঁরা ভ্রমন করেন তাঁদেরকে হেপাটাইটিস রোগের টিকা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।

হেপাটাইটিস বি: হেপাটাইটিস্ বি রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস্ বি ভাইরাস। রক্ত ও বীর্য এবং যোনি তরলের মত শরীরের তরলে এটি সংক্রমিত হয়। এটি সাধারণত অসুরক্ষিত যৌন মিলন বা ইনজেকশনের সিরিঞ্জের মাধ্যমে রক্তের মধ্যে সংক্রমিত হয়। ড্রাগ ব্যবহারকারীদের মধ্যে সাধারানত এটি ঘটে। এই রোগটি সাধারণত ভারতবর্ষ ও চীন, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উপ-সাহারান আফ্রিকায় হয়ে থাকে। হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজে থেকে এই সংক্রমণটিকে প্রতিরোধ করতে পারে ও প্রায় দু-মাসের মধ্যে সংক্রমণমুক্ত হয়ে যায়। তবে, সংক্রমিত ব্যক্তি সংক্রমণের সময় অত্যন্ত অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে পড়ে, কিন্তু এটি সাধারণত সুদূরপ্রসারী কোনো ক্ষতি করে না। অল্প সংখ্যক মানুষের মধ্যে অবশ্য এর সংক্রমণ দীর্ঘমেয়াদী হয়, যাকে বলা হয় দীর্ঘমেয়াদী হেপাটাইটিস বি। হেপাটাইটিস বি’র টিকা পাওয়া যায়। ড্রাগ ব্যবহারকারী ও উচ্চ ঝুঁকিসম্পন্ন অঞ্চলে যাঁরা বসবাস করেন তাঁদেরকে এই টিকাকরণের পরামর্শ দেওয়া যেতে পারে।

হেপাটাইটিস ‘সি’: হেপাটাইটিস ‘সি’ রোগটির কারণ হল হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস। এটি সাধারণত রক্তে ও খুব অল্প ক্ষেত্রে সংক্রামিত ব্যক্তির লালা, বীর্য বা যোনি তরলে পাওয়া যায়। এটি সাধারণত যেহেতু রক্তে পাওয়া যায় তাই রক্ত থেকে রক্তের সংস্পর্শে এই রোগটি ছড়ায়। এই রোগের লক্ষণগুলো অনেকটা ফ্লুয়ের মত, তাই অনেকে সাধারণ ফ্লুয়ের সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলেন। অনেক রোগীই নিজে থেকে এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারেন ও ভাইরাসমুক্ত হয়ে ওঠেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ভাইরাসটি দীর্ঘ বেশ কয়েক বছর থেকে যেতে পারে, সেক্ষেত্রে একে বলা হয়






News Room - Click for call