Main Menu

এসএসসি গণিত পরীক্ষায় শিবচরে কেন্দ্রে ক্যালকুলেটর নিতে বাধা, অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীদের তীব্র ক্ষোভ

মাদারীপুরের শিবচরে এসএসসি-২০২০ সাধারণ গণিত বিষয়ে ২টি ভ্য্যনু(স্কুলে) ক্যালকুলেটর নিয়ে পরীক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেয়া নিয়ে তুলকালাম ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে পরীক্ষার পর অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে। অনেক পরীক্ষার্থীদের কান্নায় ভেঙ্গে পড়তে দেখা যায়। বাধ্য হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। উপজেলা চেয়ারম্যান , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ দীর্ঘসময় চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে লিখিত অভিযোগ হয়েছে।

শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, পরীক্ষার প্রবেশ পত্রের সাথে সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও শিবচরের নন্দকুমার মডেল ইনস্টিটিউশন ভেন্যুতে গণিত পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভের মধ্যে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেন কর্তৃপক্ষ। পরে পরীক্ষা শুরুর দশ মিনিট পড় কেন্দ্র এলাকায় মাইকিং করে বাহিরে রেখে যাওয়া ক্যালকুলেটর ভিতরে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। এরপরও বেশ কিছু পরীক্ষার্থীর ক্যালকুলেটর ছাড়াই গণিত পরীক্ষা দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেক পরীক্ষার্থী দ্রুত বাজার থেকে গিয়ে সাধারন ক্যালকুলেটর কিনে আনে। এতে বিভ্রান্তিতে পরে পরীক্ষার্থীরা। ক্যালকুলেটর ছাড়াই কেন্দ্রে প্রবেশ করে কেন্দ্রের ভিতরে কান্নাকাটি শুরু করে পরীক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ক্ষোভের মুখে ও উর্ধ্বতন কত্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে মাইকিং করে ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়।

শিবচর নন্দকুমার ভেন্যুতে শেখ ফজিলাতুন্নেসা বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীরাসহ বিভিন্ন স্কুলের ১ হাজার ৪৭ জন শিক্ষার্থী পরিক্ষা দিচ্ছে। অপরদিকে নন্দকুমার ইনস্টিটিউশনের পরীক্ষার্থীরা শেখ ফজিলাতুন্নেসা বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়। শেখ ফজিলাতুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষার কেন্দ্রের পরীক্ষা শুরুর পর ২টি কক্ষে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ক্যালকুলেটর কেড়ে নেয়া হয়। ফলে এ কেন্দ্রের আংশিক শিক্ষার্থী সুষ্ঠভাবে পরীক্ষা দিতে পারেনি। তবে কিছু সময় পর কত্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এ কেন্দ্রের ক্যালকুলেটর ফিরিয়ে দেয়া হয়।

পরীক্ষাচলাকালীন সময়েই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরীক্ষার পর ক্ষোভ বিক্ষোভে রুপ নেয়। এ দুই স্কুলের পরীক্ষার্থীরা ছাড়াও অন্য স্কুলের পরীক্ষার্থীরা অনেকে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।

উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় স্কুলে গিয়ে প্রধান শিক্ষক সহকারী সচিব প্রধান শিক্ষক মোঃ হারুর অর রশিদ ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলামের কাছে ঘটনার ব্যাখা চান। এসময় তারা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজও চেক করেন।

এসময় একাডেমিক সুপার ভাইজার মোঃ আসাদুর রহমান বরিশাল বোর্ডের একটি নোটিশ প্রদর্শন করলে সকলেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। দুই প্রধান শিক্ষকের ভূমিকায় কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দুপুরের পরও পরীক্ষার্থীরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। উপজেলা চেয়ারম্যান , উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ দোষীদের বিচারের আশ্বাস দিলে দীর্ঘসময় চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়।

অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, ওই দুই প্রধান শিক্ষকের প্রতিযোগিতা ও স্নায়ুযুদ্ধের কারণে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্যালকুলেটর ছাড়া পরীক্ষার হলে ঢুকে অনেক শিক্ষার্থী প্রায় আধা ঘন্টা পর্যন্ত কান্নাকাটি করেছে। পরীক্ষা শেষেও তারা এমন ঘটনা মেনে নিতে পারছে না।

শিবচর নন্দকুমার ইনষ্টিটিউশন ভেন্যুর পরীক্ষার্থীদের অনেকেই তীব্র ক্ষোভের সাথে বলেন, ক্যালকুলেটর নিয়ে ঢুকতে না দেয়ায় গনিতের মত বিষয়ে আমরা মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছি। এটা শিক্ষকদের বিরোধের ফল।

অপর স্কুলের পরীক্ষার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পরীক্ষার শুরুতে না নিলেও ওই স্কুলের খবর এ স্কুলে পৌছার পর এ স্কুলের শিক্ষকরাও ২টি কক্ষে আমাদের ক্যালকুলেটর নিয়ে নেয়।

শিবচর নন্দকুমার ইনষ্টিটিউশন ভেনুর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক শাহাদাত হোসেন জানান, পরীক্ষার হলে ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়ায় পরীক্ষার শুরুতেই অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দেয়। এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করি।

পাচ্চর বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ সামচুল হক বলেন, নন্দকুমার ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রের আমাদের স্কুলের পরীক্ষার্থীদের ক্যালকুলেটর নিয়ে ঢুকতে না দেয়ায় পরীক্ষায় ভীষন ক্ষতি হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগ আমি ও ভদ্রাসন স্কুলের প্রধান শিক্ষক ইউএনও বরাবর দিয়েছি।

শিবচর নন্দকুমার ইনস্টিটিউশনের সহকারী কেন্দ্র সচিব মোঃ হারুন-অর-রশিদ জানান, পরীক্ষার শুরুতে সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ও নকল চেক করেছে গেটে কর্তব্যরতরা। সাধারন ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়নি। আমরা কত্তৃপক্ষের নির্দেশনা পাওয়ার পরে মাইকিং করে তাৎক্ষনিকভাবে ক্যালকুলেটর সংগ্রহ করে শিক্ষার্থীদের কাছে পাঠিয়েছি।

এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, আজ সকালে পরীক্ষা শুরু হওয়ার আগে ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশের ব্যাপারে কোন নির্দেশনা প্রদান করি নাই। কিন্তু নন্দকুমার ইনস্টিটিউশন কেন্দ্রটিতে কি কারণে শিক্ষার্থীদের নকল তল্লাশির নামে কেন ক্যালকুলেটর নিয়ে প্রবেশে নিষেধ করলেন তা জানিনা। আমার স্কুলে যে কক্ষে সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর শিক্ষকরা নিয়ে গিয়েছিল পরে কত্তৃপক্ষের নির্দেশে তা দিয়ে দেয়া হয়েছে।

শিবচর উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার মোঃ আসাদুর রহমান বলেন, ক্যালকুলেটর নিয়ে নেয়ার ঘটনা জানার পর সাথে সাথে আমি দুই স্কুলে ফেরৎ দিতে বলি।

শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আসাদুজ্জামান জানান, এসএসসি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করার অনুমতি রয়েছে। এ ব্যাপারের হঠ্যাৎ এত বাড়াবাড়ি তা কেউই আমাদের জানায়নি। এ ঘটনায় দোষীদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিবচর উপজেলা চেয়ারম্যান সামসুদ্দিন খান জানান, ঘটনাটা খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে আমরা তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিব।






News Room - Click for call